হঠাৎ করেই মেঘ সরে গিয়ে নীল আকাশে স্পষ্ট দেখা মিলল কাঞ্চনজঙ্ঘার। পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম এ পর্বতচূড়া হিমালয়ের বুক থেকে শ্বেতশুভ্র সৌন্দর্যে ধরা দিচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড় থেকে। হেমন্তের শুরুতেই এমন অপরূপ দৃশ্য স্থানীয়দের বিস্মিত করেছে, আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে।
মেঘমুক্ত আকাশে হঠাৎ করেই চোখে পড়ল শ্বেতশুভ্র পর্বতচূড়া—কাঞ্চনজঙ্ঘা। পৃথিবীর তৃতীয় ও হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম এই পর্বতশৃঙ্গ এখন পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড় থেকে। হেমন্তের শুরুর এমন আবহ স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও বিস্ময় ছড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় পঞ্চগড় জালাসি এলাকা খালি চোখে দেখা মেলে এ পর্বতশৃঙ্গের। আজ শুধু নয়; সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য ধরা দিচ্ছে খালি চোখে। মহানন্দা নদীর পাড়, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো কিংবা শহরতলির মাঠ—যেখান থেকেই তাকানো যায়, দেখা মিলছে বরফাচ্ছাদিত শিখরের।
স্থানীয়রা জানান, সকাল কিংবা বিকেলের আলোয় এ পর্বত কখনো সাদা, কখনো গোলাপি, আবার কখনো রক্তিম লাল রঙে রূপ নেয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ সাদা হয়ে ঝাপসা হয়ে আসে।
মাঠে কাজ করার সময় এমন দৃশ্য চোখে পড়ায় বিস্মিত হন স্থানীয় কৃষক মো. আনিস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে হঠাৎ আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলাম। এতটা পরিষ্কার দৃশ্য সচরাচর পাওয়া যায় না, দারুণ অনুভূতি।’
জালাসি এলাকার তরুণ রাকিব হোসেন বলেন, ‘শীতের আগে এতটা পরিষ্কারভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা সচরাচর দেখা যায় না। সবাই ছবি তুলে বন্ধুদের পাঠাচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছি।’
এমন দৃশ্য পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্যও আশার আলো নিয়ে এসেছে। স্থানীয় এক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী রতন জানান, ‘সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। আশা করি, এবারের মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে এবং ব্যবসাও ভালো হবে।’
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো থেকে সন্ধ্যায় ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়ি এলাকার আলোও চোখে পড়ে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪, দার্জিলিং ৫৮ ও শিলিগুড়ি ৮০ কিলোমিটার। ফলে সীমান্তবর্তী এই জেলায় দাঁড়িয়েই চার দেশের পাহাড়ি সৌন্দর্য একসাথে উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, হঠাৎ দেখা মিলে যাওয়া কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন প্রকৃতির অমূল্য উপহার। মৌসুমের শুরুতেই এমন দৃশ্য আগামী শীতের জন্য পঞ্চগড়কে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
পতাকানিউজ/এসআই/এসজিএন

