চট্টগ্রাম নগরীর বিপ্লব উদ্যানকে ঘিরে দীর্ঘদিন নানা বিতর্ক চলে আসছিলো। নতুন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, মেলা ও নানা স্থাপনা নিয়ে সমালোচনার তুঙ্গে। এবার বিপ্লব উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
বৃহষ্পতিবার, ১৪ আগস্ট বিকেলে ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চট্টগ্রাম, মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ ভবন, ১৬/ই, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও ঢাকা, সচিব চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর হাফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেডকে বিবাদী করা হয়েছে।
বেলার আইনজীবী এডভোকেট এস হাসানুল বান্নার স্বাক্ষরিত নোটিশে দেখা যায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ‘উদ্যান সংরক্ষণ আইন, ২০০০’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেলার মতে, আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো উদ্যান, উন্মুক্ত স্থান বা জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন কিংবা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
বেলা আরও জানিয়েছে, এর আগেও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে কৌশলে বিপ্লব উদ্যানে কংক্রিট অবকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। চুয়েট-এর এক গবেষণা বলছে, বর্তমানে উদ্যানে কংক্রিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশে। সংগঠনটি অনতিবিলম্বে বিদ্যমান সকল বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ, চুক্তি বাতিল এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে মেলা নিয়ে নানান আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। মেয়র বলেন, ‘বিপ্লব উদ্যানে একটা মেলা দেওয়া হয়েছে সাতদিনের। মেলা ইতিমধ্যে দুইদিন হয়ে গেছে, আর পাঁচদিন আছে। এই মেলা নিয়ে অনেক কিছু। মনে হচ্ছে, মেলা দেওয়ার কারণে যেন মাঠটি বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে অন্য আরেকটি দেশে চলে যাবে। যেন এখানে সারাক্ষণ দুষ্কৃতিকারীদের অভয়ারণ্য পরিণত হবে। মেলা দেওয়ার কারণে হয়তোবা ঘাস সব উঠে চলে যাবে। ঘাস আর উঠবে না জিন্দেগিতে। সবুজ আর হবে না। গাছপালা সব নষ্ট হয়ে যাবে। এ ধরনের একটা চিন্তা-ভাবনা। অথচ বিষয়টা তেমন কিছুই না।’
চলতি সপ্তাহের গেলো বুধবার বিকেলে নগরীর টাইগারপাসে সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখান মেয়র। সিটি মেয়রের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ‘মেয়রের এই আস্ফালন জনগণের মতামতের প্রতি ধৃষ্টতা দেখানো।’
নগরীর দুই নম্বর গেইটে বিপ্লব উদ্যানে ছাত্র সমাজ চট্টগ্রামের ব্যানারে জুলাই বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি আয়োজনে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেন যুবদল নেতা আলেফ উদ্দিন রুবেল। যিনি বিএনপির রাজনীতিতে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সবুজ উদ্যানে মেলার অনুমতি দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নগরবাসী।
এ বিষয়ে বেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার আলিউর রহমান বলেন, আমরা স্পেসিফিক কোনো বিষয়কে টার্গেট করিনি। সেখানে যাতে কোনো অবৈধ স্থাপনা না হয় সে বিষয়ে চিঠি দিয়েছি।
পতাকানিউজ/এএস/কেএস

