মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেনের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন সমর্থক নেতাকর্মীরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাংনী শহরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এসময় গাংনী উপজেলা শহর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দোকান পাট বন্ধ করে পালিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। সেনাবাহিনী ও পুলিশের টিম হাসপাতাল বাজার এলাকায় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছিল।
হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর করে আসবাবপত্র রাস্তায় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা জড়ো হয়ে মিল্টনের সমর্থকদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার কর্মীদের নিবৃত করেন। অপরদিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষ। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ারা ব্যবসায়ী ও পথচারীদের ২২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর, গাংনী সোবহান হোটেল, উপজেলা বিএনপি, দলীয় প্রার্থী ও মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনকে দ্বিতীয়বারের মত মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। এতে বর্তমান জেলা সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন সমর্থক নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন।
সুলাইমান শেখসহ গাংনী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ‘সোমবার রাত ৮টা থেকে ভাঙচুর, মিছিল ও সংঘর্ঘের কারণে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ। বিএনপির জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থকরা রাত থেকেই টায়ার জ্বালিয়ে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়ক অবরোধ করে রাখে।’
গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘বিএনপি ১৬ বছরের ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়ে সঠিক কাজ করেছে। কিন্তু মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থক ও কর্মীরা শহরে যে কাণ্ড ঘটালেন এটা দলের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্নু করেছে।’
আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘সোমবার মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই তারা (প্রতিপক্ষ) রাস্তায় নেমে উচ্ছৃঙ্খলতা শুরু করে। মঙ্গলবার সকালের দিকে আমি কিছু নেতাকর্মী নিয়ে বড়বাজার মসজিদের কাছে পৌঁছানোমাত্রই জাভেদ মাসুদ মিল্টনের লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। ছুঁড়তে থাকে ইটপাথর।’
মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘কেন্দ্রঘোষিত অবৈধ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তার সমর্থকরা মিছিল, প্রতিবাদ সভাসহ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।’
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলের বঞ্চিত গ্রুপের উচ্ছৃঙ্খল ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে শহরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’
গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে সংঘর্ষর আশংকায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।’
পতাকানিউজ/এএইচ

