বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। শুক্রবার, ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৫টায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে এরুলিয়া বন্দরের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানালেন, তিনি দোকানের ভেতর ছিলেন। প্রচন্ড শব্দে বাইরে তাকালে দেখতে পান ভয়াবহ দুর্ঘটনার দৃশ্য। তিনি বলেন, এখানে তো কামলার বাজার বসে। এ রাস্তার দুধারে সব লোকজন বসে থাকে। যার যার দরকার দরদাম করে কামলাদের নিয়ে যায়। আজ হঠাৎ বাসটি এসে আমার দোকানের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগায়। কিন্তু বাস না থেমে লোকজনের ওপর দিয়ে চলতে শুরু করে। ঘটনার পরপর বাসের চালক, সহকারি পালিয়ে গেছে। তারপর তো আমরা গিয়ে কয়েকজনকে তুলে হাসপাতালে দিয়ে পাঠাই।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই মোটরসাইকেল চালকের নাম বেল্লাল। তিনি কামলাকে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে হঠাৎ রাস্তায় চলে আসেন। এরপরই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনার কিছুক্ষণ পর তার স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যান।
ঘটনা জানাজানির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের সদস্যরা এরুলিয়া বন্দরে চলে আসেন। তারা মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত কয়েকজনকে নিয়ে যান হাসপাতালে।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানা গেছে, ২২ জন সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে সাজু মিয়া (৪৫) নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। বাড়ি গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে।
জরুরি বিভাগের বিছানায় শুয়ে থাকা সাজু মিয়া বলেন, আমরা কামলারা সব ভোর থেকে বসে আছি। কি হলো, আমরা কিছু বুঝেই উঠতে পারিনি। হঠাৎ গায়ের ওপর সব হুরমুর করে পড়ল। এরপর দেখলাম আশেপাশে রক্ত, মানুষ পড়ে আছে। পরে লোকজন আমাক ধরে গাড়িত করে হাসপাতালে নিয়ে আসল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ১০০ জন বগুড়ার এরুলিয়ায় এসেছেন আমন ধান রোপনের মৌসুমে কাজ করে টাকা উপার্জনের জন্য। বৃহস্পতিবার রাতে এসেছেন তারা। এরুরিয়া বন্দরে একটি ঘরে মাথাপিছু প্রতি রাত ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকেন তারা। এক থেকে দেড় সপ্তাহ কাজ শেষে আবার বাড়ি ফিরে যান।
নিহত আবু সাঈদের খালাতো ভাই সাকিবুর জানান, ভাই, কপালে লেখা ছিল। আমার আসার কথা আগামীকাল শনিবার। সাঈদ ও মামাতো বোনের স্বামী আমিরুল একদিন আগেই চলে আসে। এসেই সকালে এ ঘটনা। দুজনেই মারা গেছে।
নিহত নুর মোহাম্মদ সরদারের ভাতিজা আল আমিন সরদার বলেন, ভোরে বড় চাচা জমিতে ধান লাগানোর জন্য শ্রমিক নিতে এরুলিয়া এসেছিলেন। এরপর আমরা খবর পাই যে বাসচাপায় তিনি মারা গেছেন। সেই খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে আসছি। সুস্থ মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসল। এখন শুনি তিনি আর নেই।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, আমরা ৭ জন নিহতের নাম পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছি। এর মধ্যে দুজন বগুড়ার। বাকিরা গোবিন্দগঞ্জ ও জয়পুরহাট থেকে কাজের উদ্দেশ্যে এরুলিয়া এসেছিল।
ফাপোঁড়ের বেল্লালের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকেই নিয়ে গেছে। এছাড়া আরেকটি মরদেহ গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে গেছে নিহতের স্বজনরা। এখন হাসপাতালের মর্গে পাঁচটি মরদেহ আছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আমরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে মরদেহ।
ওসি আরও বলেছেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় বাসটিকে পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আর হতাহতদের পরিবারের কেউ যদি মামলা করেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করবে।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

