চায়ের দেশ আর জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা এবং তরুণদের সুস্থ জীবন গড়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বেঙ্গল কনভেনশন হাফ ম্যারাথন। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৮০০ দৌড়বিদ। শীতের সকালের কনকনে ঠান্ডা আর কুয়াশা ভেদ করে শুরু হয় দৌড়। পাহাড়, চা-বাগান আর সবুজের পথ ধরে এগিয়ে চলে শত শত দৌড়বিদ। পর্যটন শহর মৌলভীবাজার যেন এদিন পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৬টায় মৌলভীবাজার এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয় বেঙ্গল কনভেনশন হাফ ম্যারাথন। শুরুতেই ৮০০ দৌড়বিদরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে শুরু হয় দৌড়। ২১ ও ১০ কিলোমিটার দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন নারী-পুরুষসহ ৮০০ দৌড়বিদ।
২১ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে ৬০০ দৌড়বিদ সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম থেকে, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, কালেঙ্গা সড়ক, দেওরাছড়া ও প্রেমনগর চা-বাগান ঘুরে এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে এসে দৌড় শেষ করেন। ১০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে অংশ নেন ২০০ জন।
ঢাকা থেকে অংশ নেয়া সামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঢাকায় নিয়মিত দৌড়াই। পাহাড়ি পথে দৌড়ানো নিয়ে একটু শঙ্কা ছিল, তবে ভালোভাবেই শেষ করতে পেরেছি। মেয়েদের সুস্থতার জন্য দৌড় খুবই জরুরি।’
সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন ৭৫ বছর বয়সী দৌড়বিদ খবির উদ্দিন খান। ২১ কিলোমিটার দৌড়ে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘মারির ওপর ওষুধ নাই, দৌড়ের উপর ব্যায়াম নাই।’
মৌলভীবাজার রানার্স ক্লাব ও সাইক্লিনিং কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে এবারের ম্যারাথনের থিম ছিল হাইল হাওড়ের বাইক্কা বিল। প্রতিযোগিতা শেষে দুই ক্যাটাগরিতে ২০ জন দৌড়বিদকে পুরস্কৃত করা হয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে, আরও সুন্দরভাবে ম্যারাথনের আয়োজনের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বেঙ্গল কনভেনশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা ডা. সঞ্জীব মীতৈ বলেন, ‘পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং তরুণদের সুস্থ, সক্রিয় জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আমাদের এ আয়োজন। এ আয়োজন শুধু একটি দৌড় নয়, এটি মৌলভীবাজারের পর্যটন পরিচিতিকে নতুন করে জানান দেয়ার এক শক্তিশালী বার্তা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে, আরও সুন্দরভাবে এরকম ম্যারাথনের আয়োজনের চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
পতাকানিউজ/এসআই/আরবি

