বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথি উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় আয়োজন মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির প্রত্যাশায় দিনভর যমুনা নদীর তীরে ভক্তদের ঢল নামে।
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াজান গ্রামের মন্দিরসংলগ্ন যমুনা নদীর ঘাটে এ পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের আলো ফুটতেই দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পূণ্যার্থী নদীর তীরে সমবেত হন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ স্নানের মাধ্যমে ভক্তদের পাপমোচন ও আত্মিক শান্তি লাভ হয়।
এদিকে স্নান উপলক্ষে মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্ত্রোচ্চারণ, সূর্য অর্ঘ্য প্রদানসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। পুণ্যার্থীরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী ও ডাব দিয়ে পূজা অর্চনা করেন।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা থেকে আসা রাধা রানী বলেন, ‘প্রতিবছরই এখানে পুণ্যস্নান করতে আসি। এবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছি। মায়ের কাছে পাপমোচনের প্রার্থনা করেছি।’
শিবগঞ্জ থেকে আসা সাধন চন্দ্র ও তার স্ত্রী কণিকা রানী জানান, পুণ্যস্নানের মাধ্যমে পরিবারের মঙ্গল ও দেশের মানুষের কল্যাণ কামনা করেছি।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে আগত রতন কুমার বলেন, মায়ের কাছে সবার মঙ্গল কামনা করছি।
পুরোহিত বাধন কুমার জানান, ভক্তরা পাপমোচন ও ভগবানের কৃপা লাভের আশায় এ স্নান সম্পন্ন করেন।
উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি চৈতন্য শীল বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় এ পূণ্যস্নানে অংশগ্রহণ করেন তারা।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

