বগুড়ার ধুনট উপজেলায় উজানের পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে চরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ধান, পেঁয়াজ, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসময়ে পানি বাড়ার কারণে দিশেহারা যমুনা পাড়ের কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরে গত কয়েক বছরে কৃষিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। একসময় অনাবাদি থাকা এসব জমিতে এখন গম, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। নদীভাঙা মানুষরা কঠোর পরিশ্রমে এসব জমিকে চাষের আওতায় এনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন।
কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিচু জমিতে আবাদ করা ফসল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির কালো বোরো ধান, পিঁয়াজ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। যাতে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।
চরাঞ্চলের কৃষক আবু তালেব বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে জমিতে ফসল আবাদ করেছি। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে ক্ষতি সামাল দেব।’
কৃষক সামছুল হক বলেন, ‘চরের জমিই আমাদের একমাত্র ভরসা। পানি বাড়লে সব তলিয়ে যায়। প্রতি বছর এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
কৃষক শাহীন আলম বলেন, ‘পেঁয়াজ ও বাদামের আবাদ করেছি। কিন্তু পানি বাড়তে থাকলে কিছুই ঘরে তুলতে পারব না—সব নষ্ট হয়ে যাবে।’
কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘ঋণ করে চাষ করেছি। এখন পানি বাড়ায় দুশ্চিন্তায় আছি—কীভাবে ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না।’
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

