এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় সারিয়াকান্দির উপজেলার যমুনা নদীর ৮২টি চরের ১৯ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ভোটারদের কেন্দ্রমুখি করা খুবই কঠিন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ যমুনা নদীর অধিকাংশ চরেই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাছাড়া বাড়ি থেকে ভোটকেন্দ্র অনেকটা দূরে। কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তা শঙ্কায় আছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নই যমুনা নদীর চরে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, এ আসনের সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর, বোহাইল, চালুয়াবাড়ি, কর্নিবাড়ি ও কাজলা ইউনিয়নে যমুনা নদীর প্রত্যন্ত চরে ২০ হাজার ৪৮ নারী ভোটারসহ মোট ভোটার ৪০ হাজার ৮৬৩ জন।
চরাঞ্চলের অনেকে জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম হতে পারে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যে বলছে, বগুড়া-১ আসনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭২০ নারী ভোটারসহ মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪-এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬১ জন। সারিয়াকান্দির মোট ভোটারের ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশই চরের ১৯ কেন্দ্রের ভোটার।
এছাড়া সারিয়াকান্দিতে চরাঞ্চলে যে ১৯টি কেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট রয়েছে ছোনপড়া কেন্দ্রে। ৩ হাজার ৪০৯টি আর ৩ হাজার ১৯৫ ভোট আছে বোহাইল ইউনিয়নে ধারাবর্ষা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সবচেয়ে কম ভোটার আছে কাজলা ইউনিয়নে বেনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৪১।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চরাঞ্চলে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে হবে হেঁটে।
চরের অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র ছোনপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সারিয়াকান্দি উপজেলার কার্নিবাড়ি ইউনিয়নে ওই কেন্দ্রে ভোটার আছেন ৩ হাজার ৪০৯ জন।
স্কুলের শিক্ষক এমদাদুল হক জানান, প্রশিক্ষণের সময় ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বলা হয় কেন্দ্রটি স্পর্শকাতর। সে কারণে সবাই সতর্ক থাকেন।
তিনি বলেন, ‘এ কেন্দ্রে ভোটের সময় যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেভাবে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা সম্ভব হলে কেন্দ্রে কোনো সমস্যা হবে না। কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে ভোটারদের মাঝে।
যমুনার অধিকাংশ দুর্গম চরে দ্রুত চলাচলে মোটরসাইকেলের বিকল্প নেই। কিন্তু ভোটের তিন দিন আগে থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। আর সে কারণেই অধিকাংশ ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে হবে হেঁটে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রত্যন্ত চর কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনিস মোল্লা জানান, চরদলিকা, হাটবাড়ি, মূলবাড়িসহ অনেক চর থেকে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে হবে হেঁটে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।
চরদলিকা গ্রামের বাসিন্দা আজিবর রহমান বলেন, ‘শঙ্কা কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথের নিরাপত্তা নিয়ে। ভোটারদের অনেকের বাড়ি কেন্দ্র থেকে তিন কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি দূরে। অধিকাংশ কেন্দ্রেই যেতে হবে পায়ে হেঁটে। আর সে কারণেই যাওয়া-আসার পথ নিরাপদ হওয়া জরুরি। তা না হলে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কমতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘চরে কেন্দ্রের পাশাপাশি ভোটারদের যাওয়া-আসার পথ নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চরাঞ্চলে যে ভোটকেন্দ্রগুলো রয়েছে, বিশেষ করে আমাদের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোর মিটিং হয়েছে। চরের কেন্দ্রে কেন্দ্রে আর্মির ক্যাম্প হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার দুর্গম কাজলা, হাটশেরপুর, বোহাইল, চালুয়াবাড়ি ও কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় চরে ক্যাম্প স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী।
বগুড়ার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার দুর্গম চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিতে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ সরঞ্জাম পাঠানো নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের পর দুর্গম চরের কেন্দ্রগুলো থেকে দ্রুত ব্যালট পেপার উপজেলা সদরে আনতে নির্বাচন কমিশন থেকে হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

