যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় একের পর এক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবার সবকিছু হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামে সাম্প্রতিক ভাঙনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে দ্রুতগতিতে তীরভাঙন বাড়ছে। এতে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনই নতুন এলাকা নদীতে ধসে পড়ছে। অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে এখনও নদীতীর ছাড়তে পারছেন না।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মোকছেদ আলী ও ইসলাম উদ্দিন বলেন, তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি, বসতঘর সবকিছুই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ করে নিঃস্ব হয়ে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আহাম্মদ আলী জানান, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সড়ক, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ অংশে অন্তত ৫০০ ফুট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা গেলে অনেক ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, যমুনা নদীর ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতপুরসহ আশপাশের ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।
পতাকানিউজ/জেএইচসি/আরবি

