রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ উল্টে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ নারীর মরদেরহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পেরেছেন। ওই বাসে প্রায় ৪৫ জনের মত যাত্রী ছিল। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কের মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬০) ও রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাংশা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম (৫৬)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ । তিনি বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ দুটি রাখা হয়েছে।
এদিকে সেখানে ব্যাপক ঝড় আর বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়।
বুধবার, ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া ৫টায় ৩ নম্বর পল্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। সেসসময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসে প্রায় ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। পল্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঝড়-বৃষ্টির কারণে নদী কিছুটা উত্তাল। এ কারণে কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ সব আছে। এছাড়া পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ডিসি, এসপি, প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছে।
পতাকানিউজ/আরবি

