আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডসের ২ সদস্যকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে লবি রুলস ভঙ্গের কারণে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন লর্ড রিচার্ড ড্যানাট ও লর্ড ডেভিড ইভান্স। একটি আন্ডারকভার তদন্তে দ্যা গার্জিয়ান প্রমাণ করেছে তাঁদের অনিয়মের খবর। যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার, ২৪ নভেম্বর দ্যা গার্জিয়ানের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দ্যা গার্জিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লর্ড ড্যানাটকে চার মাসের জন্য বরখাস্ত করা হচ্ছে। তাঁদের তদন্তে আরও দেখা গেছে, তিনি বেসরকারি ক্লায়েন্টদের পক্ষ থেকে সরকারি মন্ত্রীদের সাথে দেখা করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। আন্ডারকভার সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি চাইলেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। দ্যা গার্ডিয়ান পরবর্তীতে আরও তিনটি ঘটনায় আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সরকারি প্রভাব খাটানোর তথ্য প্রকাশ্যে আনে।
পরে ড্যানাট এক বিবৃতিতে বলেন, তার ব্যক্তিগত মান-সম্মান নিয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণে তিনি দুঃখিত। আপিল করে সময় নষ্ট হতো বলে তিনি শাস্তি মেনে নিয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে কাজ করাটাকে নিয়ম ভাঙার অযুহাত মনে করেন না তিনি।
অন্যদিকে লেবার দলের লর্ড ডেভিড ইভান্সকে পাঁচ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হচ্ছে। দ্যা গার্ডিয়ানের আন্ডারকভার সাংবাদিকদের তিনি বাণিজ্যিক স্বার্থে অন্য এমপিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে চারটি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এই ঘটনার পর লর্ড ইভান্সকে দলীয় হুইপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দ্যা গার্ডিয়ান জানায়, তিনি তার ছেলের ব্যবসার জন্য হাউস অব লর্ডসে বাণিজ্যিক ইভেন্ট আয়োজনেও প্রভাব খাটিয়েছিলেন। তার ছেলে রিচার্ড ইভান্স ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ৪০০ পাউন্ডের বেশি ফি নিচ্ছিলেন যা পার্লামেন্টের নিয়ম সম্পূর্ণরুপেই লঙ্ঘন করে। সতর্ক করার পরও এসব ইভেন্ট বন্ধ করা হয়নি।
এছাড়া তদন্তে ড্যানাটের বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত লবিং কর্মকান্ড উঠে এসেছিল। ইতোমধ্যে ২০২২ সাল্ব একটি সার কারখানা কেনার উদ্যোগে সরকারি সহায়তা আদায়ের জন্য তিনি মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এর ঠিক তিন দিন পরেই তিনি ২,০০০ পাউন্ড পান ও পরে আরও তিনটি সমপরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন।
এরপর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানি টেলেডাইনের পক্ষে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি ফিলিস্তিন অ্যাকশনের বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের আশ্বাস চান।
তাছাড়া ২০২৪ সালে ঘানায় একটি স্বর্ণ খনি কোম্পানির পক্ষ থেকে তিনি দেশটির ব্রিটিশ দূতাবাসে লবিং করেন। ওই কোম্পানিতে তার নিজস্ব শেয়ারও ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কেলেঙ্কারি হাউস অব লর্ডসের জন্য বড় একটি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে আরও কয়েকজন লর্ডকে তদন্তের পর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, যার সূত্রপাতও দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হয়েছিল।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ড্যানাট ও ইভান্স উভয়েই শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত শাস্তি মেনে নিতে বাধ্য হন।
পতাকানিউজ/কেএ

