শ্রম দিবসের ছুটির শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের মূল দাবি, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন তাঁরা।
সোমবার দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ধনকুবের নয়, শ্রমিকই অগ্রাধিকার’ লেখা ব্যানার বহন করে স্লোগান দেন।
নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন এবং তাঁকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
রেস্তোরাঁ কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ এর সদস্য জিওভান্নি উরিবে বলেন, ধনকুবেরদের মুনাফার স্বার্থে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ‘নিউইয়র্কের পরিষেবা খাতের কর্মীরাই শহরের মূল ভরসা। অথচ ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ন্যূনতম মজুরি না দিয়ে কম পারিশ্রমিক চালু রাখতে চাইছে। আমরা শুধু টিকে থাকার মতো মজুরিই চাই।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার, যা ২০০৯ সালের পর আর বাড়েনি। টিপ-নির্ভর কর্মীদের জন্য এ হার আরও কম—মাত্র ২.১৩ ডলার, যা সর্বশেষ ১৯৯১ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও আইন অনুযায়ী বাকি অংশ নিয়োগকর্তাকে দিতে হয়, কিন্তু প্রায়ই শ্রমিকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
শিকাগোতেও হাজারো মানুষ ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। প্রেসিডেন্ট শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি দিলেও, শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ঘোষণা দেন, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই শহরই দেশকে রক্ষা করবে।’ তাঁর বক্তব্যে বিক্ষোভকারীরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান।
পতাকানিউজ/ওয়াইএস

