যুক্তরাজ্যে উন্নত দেশ। সড়ক অবকাঠামো বেশ মজবুত। এটা প্রচারিত সত্য। বাস্তবেও রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকার সড়ক অবকাঠামো মজবুত। কিন্তু এমন একটি গ্রাম আছে সেখানে, যেখানকার বাসিন্দারা রীতিমত গ্রামের নামই পাল্টো দিয়েছেন প্রতিবাদ স্বরূপ।
গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে সড়ক মেরামতের দাবি করে আসেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যেন ঘুমে। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের নামটি পাল্টে নতুন নামকরণ করেন তারা। নতুন নাম দেন ‘গর্তের শহর’
ঘটনা হলো -যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ছোট্ট গ্রাম ট্রেলোগান এর বাসিন্দারা রাস্তার অসংখ্য গর্তে এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা অভিনব এক প্রতিবাদে নেমেছেন-গ্রামের নামই বদলে দিয়েছেন!
কারণ, গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর অফিসে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন গ্রামের সড়ক বেশ খানাগর্তে ভরা। তা যেন দ্রুতই মেরামত করা হয়। কিন্তু কাউন্সিলর অফিস সেদিকে নজরই দিচ্ছিল না। ফলে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হন। আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেন, সরকারের নজর পড়ে এমন কিছু করতে হবে তাদের। যেই আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত। সেই বাস্তবায়ন।
এবার গ্রামের প্রবেশমুখে নতুন সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন গ্রামবাসী। নাম লিখেন ‘গর্তের শহর।’ ইংরেজিতে গ্রামের নাম এমন- ‘Trelogan’। গ্রামবাসী নতুন নাম দেন ‘Tregarton’ (অর্থাৎ গর্তের শহর!)
ঘটনা এখানেই থামতে পারতো। কিন্তু থামলো না। এবার গ্রামবাসী সড়কে হাঁটা বা চলাচলের সময় নিজদের পরিচয় হিসেবে পথচারী না বলে বলা শুরু করলেন ‘গর্তচারী!’
ক্ষোভের সঙ্গে স্থানীয় এক বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গাড়ি চালাতে গেলে মনে হয় রাস্তা নয় যেন গর্তের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। তাই এখন আমরা গর্তচারী!’ অন্য একজন গ্রামের বাসিন্দা বলেন, ‘শুনে বিষয়টি হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু ঘটনাটি বাস্তব এবং গ্রামের মানুষ সত্যিই দুর্ভোগে আছেন।’
যাই হোক, গ্রামবাসীর এমন ‘গর্তের শহর’ এবং ‘গর্তচারী’ প্রচারণার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে জনক্ষোভ ও প্রতিবাদ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে পড়ে। শেষে কাউন্সিলর জানান, তারা রাস্তা মেরামতের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছেন এবং দ্রুতই সমস্যা সমাধান করবেন।
-পতাকানিউজ

