যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ এলাকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলায় সাত বছরের এক শিশুসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি একক বন্দুকধারী তিনটি পৃথক স্থানে এই হামলা চালায়।
এ ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী দারিকা মুর নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে প্রথমে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত হত্যার অভিযোগ যুক্ত করে মামলাটি ক্যাপিটাল মার্ডারে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্লে কাউন্টির শেরিফ এডি স্কট। শনিবার, ১০ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
শেরিফ স্কট জানান, এই ভয়াবহ হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বন্দুকধারীর আত্মীয়স্বজন।
সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ এডি স্কট হামলার পুরো সময়ক্রম তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে সিডার ব্লাফ এলাকার ব্লেক রোডের একটি ঠিকানা থেকে ৯১১ নম্বরে প্রথম ফোন আসে। সেখানে গুলিবিদ্ধ একাধিক ব্যক্তির খবর দেওয়া হয়। সিডার ব্লাফ ক্লে কাউন্টির পশ্চিমাংশে অবস্থিত একটি ছোট ও গ্রামীণ, অননুমোদিত জনপদ।
তদন্তে জানা যায়, হামলার সূচনা হয় সিডার ব্লাফের ডেভিড হিল রোডে অবস্থিত একটি বাড়ি থেকে। সেখানে দারিকা মুর প্রথমে তার বাবা গ্লেন মুর (৬৭), চাচা উইলি এড গাইনস (৫৫) এবং ভাই কুইন্টিন মুরকে (৩৩) গুলি করে হত্যা করেন।
শেরিফ স্কট জানান, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনেরই মাথায় গুলির ক্ষত দেখতে পান ও ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
এরপর মুর তার ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ফোর্ড এফ-১৫০ পিকআপ ট্রাক চুরি করে নিয়ে যান বলে জানান শেরিফ। সেই ট্রাকেই তিনি ব্লেক রোডের একটি বাড়িতে যান, যেখান থেকে ৯১১-এ ফোন করা হয়েছিল।
শেরিফ স্কট জানান, ওই বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে মুর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে বাড়ির ভেতর থাকা সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে গুলি করে হত্যা করেন।
শেরিফ জানান, নিহত শিশুটির মা, যিনি মুরের চাচাতো বোন, সে সময় বাড়িতে ছিলেন। তার সঙ্গে আরও তিনজন শিশু ছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, নিহত শিশুটির মাথায় গুলি লেগেছে। শেরিফ স্কট আরও জানান, ওই বাড়ির ভেতরে থাকা আরেকটি ছোট শিশুর মাথায় একটি অস্ত্র আটকে থাকতে দেখা যায়। ওই শিশুটিকেও গুলি করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পতাকানিউজ/এএইচ

