মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়ল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে তীব্র ও ভয়াবহ আক্রমণ ছিল, যা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর, যার মধ্যে তেল আবিব ও হাইফা রয়েছে। এছাড়া ‘পশ্চিম জেরুজালেম’এলাকাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়—এটি বিতর্কিত জেরুজালেম শহরের সেই এলাকা যা বর্তমানে পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, জেরুজালেমে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজতে শোনা গেছে এবং দূরে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এ দফায় ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক লক্ষ্যবস্তু এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের জবাবে ইরান ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের আরও তিনটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মঙ্গলবার দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ যাওয়ার ‘সাহস দেখায়নি’। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছিলেন, মার্কিন নৌবাহিনী একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করেছে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন।
আজ ভোরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
বাসস
পতাকানিউজ

