যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম। এছাড়া এশিয়ার শেয়ারবাজারেও সূচকের উত্থান হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
আজ বুধবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়, যদিও যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির তুলনায় তা এখনও বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৭০ ডলার।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু বাড়ে। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়।
এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এ দামের পতনের পেছনে মূল কারণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। তবে যুদ্ধবিরতি টেকসই হবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোলমস বলেন, এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে কি না, তা বোঝার জন্য ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হবে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আলোচনায় এখনো বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে এবং বাজার এখন ‘অপেক্ষা করে দেখার’অবস্থানে রয়েছে।’
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা স্থগিত রাখতে রাজি…তবে শর্ত হলো, ইরানকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইডিটি) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন, যুদ্ধবিরতি না হলে ‘আজ রাতেই পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
পতাকানিউজ/আরবি

