ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভয়াবহ লঙ্ঘন করে আবারো হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের সরাসরি হামলায় গাজায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজন আহত হয়েছেন। তবে এখনো ‘অনেক ভুক্তভোগী ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছেন, কারণ অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না’।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত, ১৪৬ জন আহত হয়েছেন এবং ৪১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ১৫৯ জনে। হামাস-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সদস্যরা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি সৈন্যরা এখনো গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে তারা হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ তার বিবৃতিতে জানায়— ‘আজ সকালে, রাফাহ এলাকায় সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত আইডিএফ সেনাদের লক্ষ্য করে জঙ্গিরা একটি অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ও গুলি চালায়। এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘হুমকি নির্মূল করতে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত টানেল প্রবেশপথ ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে আইডিএফ ওই এলাকায় অভিযান শুরু করেছে।’ আইডিএফ বলেছে, ‘এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইডিএফ এর জবাব কঠোর হবে।’
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় বলেছে, চুক্তির পর থেকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ৪৭টি লঙ্ঘন ঘটিয়েছে, যাতে ৩৮ জন নিহত ও ১৪৩ জন আহত হয়েছে। ‘এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে বেসামরিকদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো, ইচ্ছাকৃত গোলাবর্ষণ ও সুনির্দিষ্ট অভিযান এবং একাধিক বেসামরিককে গ্রেপ্তার।’
পতাকানিউজ/টিআইএ

