আলোচিত চিকিৎসক কামরুল ইসলামের কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (সিকেডি) চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনসহ তিনজনকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অন্য যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তারা হলেন এমবি স্বপন কাজী ও শাওন হোসেন। আদালতের অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুপুরের দিকে এই ৩ জনকে আদালতে হাজির করে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার এসআই মো. ছাব্বির আহমেদ প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামি পক্ষে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদাল ত প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় সোমবার মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. সুমন ও মো. লিটন মিয়া । এরা যুবদল নেতা মইনের সহযোগী।
রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে (মঈন) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে তার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন। তার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন তাকে বলে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে বাদীসহ তার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, তিনি বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করেন এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন।
পরে তার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।
এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।
এক পর্যায়ে মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ এবং তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান।
আসামিরা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রকৃত ঘটনার কথা স্বীকার না করে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। তাই মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় এবং গ্রেপ্তার, পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
-পতাকানিউজ/এএ

