ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গণধর্ষণে রাজি না হওয়ায় মর্জিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারী খুন হন। মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার করিয়াগ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৩), হবিগঞ্জের মো. হোসেন ওরফে শফিক (৪০) ও মো. রুমান মিয়া (২৪)। শহিদুল, হোসেন ও রুমান আখাউড়ায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শহিদুল কাঁচাবাজারের দারোয়ান।
গ্রেপ্তার তিনজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই তিনজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোবাইল ফোনের কল লিস্ট, সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রাম নয়াবাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মর্জিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে আখাউড়া থানা পুলিশ। মর্জিনার গলা ও পায়ে কাপড় পেঁচানো ছিল। মরদেহের পাশে ছিল পুরুষের জুতা। এ ঘটনায় মর্জিনার মেয়ে রহিমা বেগম আখাউড়া থানায় অভিযোগ করেন। বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে মর্জিনার মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়।
পিবিআই জানায়, পণ্য নামানোর কথা বলে মঙ্গলবার রাতে মর্জিনাকে ডেকে আনেন বাজারের দারোয়ান শহিদুল। তাকে পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে শহিদুল ধর্ষণ করে। পরে হবিগঞ্জের গয়েরপুর গ্রামের মো. রুমান মিয়া ও রানীগঞ্জের হোসেন ওরফে শফিক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মর্জিনা বাধা দেয়। এ অবস্থায় তিনজন মিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। রুমান ও হোসেনকে মূলত শহিদুলই ডেকে আনে।
পুলিশ সূত্র আরো জানায়, খবর পেয়ে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। আটক পাহারাদার শহিদুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার দেয়া তথ্যে আরও দুজনকে আটক করা হয়। এরপর রহস্যের জট খুলে।
ঘাতকদের বরাতে পিবিআই জানায়, শহিদুলের পর হোসেন ও রুমান ওই নারীকে জোরপূর্বক হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভিকটিমের প্রতিরোধের মুখে আসামিরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হত্যাকাণ্ডের সময় আসামি হোসেন গলা চেপে ধরে, শহিদুল দুহাত চেপে ধরে এবং রুমান মিয়া ভিকটিমের দুই পা এর উপর দাঁড়িয়ে থাকে। তিনজনে মিলে মর্জিনাকে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়।
পিবিআই জানায়, শহিদুল মোবাইল সেট হারানোর মিথ্যা দাবি করলেও, ঘটনার পর তিনি একই হ্যান্ডসেটে সিম কার্ড পরিবর্তন করে অন্য মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছিলেন। তবে নানা বিষয়ে সন্দেহ হলে সড়ক বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে বাকি দুজনকে মসজিদ পাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পতাকানিউজ/বিপিবি/আরবি

