মক্তবের খোলা দরজা। উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলেন একজন। কিছুক্ষণ পর এক কিশোরীকে টেনে এনে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেন। কিশোরীকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য নিজেই মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন।
সিলেটের কানাইঘাটের একটি মক্তবে ধারণ করা এ রকম একটি ভিডিও বুধবার রাতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় যৌন নিপীড়ককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কানাইঘাট থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে বালাগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়। কানাইঘাট থানার ওসি আবদুল আউয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন করে ভিডিও ধারণ করা লোকটির নাম মো. শরিফ উদ্দিন শরিফ (২৫)। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
কানাইঘাট থানার ওসি জানান, ভিডিওতে এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে ঘটনাস্থল নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভাষা ও উচ্চারণ দেখে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, এটি বৃহত্তর জৈন্তাপুর ১৮ পরগনা এলাকায় ঘটতে পারে। বুধবার রাতে শরিফ উদ্দিনের সিঙ্গারীপাড়ের বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর হরিপুর ও বালাগঞ্জে তার অবস্থান পাওয়া গেলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে শরিফ উদ্দিনকে বালাগঞ্জের তাজপুর থেকে আটক করা হয়েছে। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মক্তবের পরিচালক শরিফ তার দপ্তরে বসে মোবাইল ফোনের ভিডিও অন করে কিশোরীকে ডেকে এনে যৌন আচরণ করেন। যে কক্ষে তিনি এ আচরণ করছিলেন, সেটির অপর পাশে কক্ষ থেকে মক্তবের পড়াশোনার শব্দ আসছিল। দরজাও খোলা ছিল। শরিফ যৌন আচরণ করা অবস্থায় খোলা দরজায় লোকজনের আসা-যাওয়াও খেয়াল রাখছিলেন। এক পর্যায়ে দরজার ওপাশে লোক উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এ সময় তার নিজ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার বিষয়টি বোঝা যায়।
শরিফ উদ্দিনের এ মক্তবে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫জন। যাদের সবাই শিশু ও কিশোর-কিশোরী।
পতাকানিউজ/ইউএম/এসজিএন

