রমজানে মাসে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।
এর আগে গত রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রমজানের শুরু থেকেই স্কুল বন্ধের আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছিল, রমজানে সব মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগামী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অর্থাৎ রমজানের শুরু থেকে বন্ধ থাকবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এ আদেশের আওতায় ছিল না।
রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ২০ জানুয়ারি রিট দায়ের করেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল। সেই নোটিশের জবাব না পাওয়ায় রিট দায়ের করা হয়েছিল।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রমজানের নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পতাকানিউজ/আরবি

