চট্টগ্রামের রাউজান পাহাড় নদীর মিলনস্থলে একসময় শান্ত গ্রামের চিত্র এখন যেন অস্থিরতায় ভরপুর। বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ আর স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এখানকার বাতাসকেও ভারী করে তুলেছে। সেই দ্বন্দ্বের আগুনেই প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম (৪৫)। এক মাসের তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানে অবশেষে খুলেছে এই রহস্যের জট।
গত ৭ অক্টোবর বিকেলে, হাটহাজারীর মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে থমকে যায় এক প্রাইভেটকার। গাড়িতে ছিলেন হামিম এগ্রো ফার্মের মালিক ব্যবসায়ী হাকিম। বাড়ি থেকে শহরে ফেরার পথে হঠাৎ মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা সামনে এসে গুলি ছোড়ে। মুহূর্তেই থেমে যায় তাঁর জীবনযাত্রা। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
হত্যার পর থেকেই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী থানা পুলিশ নেমে পড়ে তদন্তে। টানা কয়েক সপ্তাহের অনুসন্ধানে একে একে ধরা পড়ে হত্যায় জড়িতরা।
৩১ অক্টোবর রাউজানের গরীব উল্লাহ পাড়া থেকে প্রথম গ্রেপ্তার হন আব্দুল্লাহ খোকন ওরফে ল্যাংড়া খোকন। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কাহিনি প্রকাশ করেন।
খোকনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২ নভেম্বর চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মারুফ এবং ৪ নভেম্বর রাতে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাকলাইনের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় একনলা বন্দুক, এলজি ও হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।
গ্রেপ্তারদের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ৯ নভেম্বর রাতে রাউজানের আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেই অভিযানে যেন মেলে এক ভয়ংকর অস্ত্রের ভাণ্ডার। ৪টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলভার, ১টি চায়না রাইফেল, ১টি শটগান, ৭টি ম্যাগাজিন, ৮৫ রাউন্ড গুলি, ১৭ কার্তুজ, ২টি রামদা, ১টি রকেট ফ্লেয়ার, ইয়াবা, গাঁজা এবং নগদ টাকা।
অভিযানস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় সাকিব ও শাহেদ নামে ২ জনকে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু সোমবার, ১১ নভেম্বর দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘এই হত্যাকাণ্ড কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। রাউজানের বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এটি সংঘটিত হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হাকিমকে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার মূলহোতা এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো নোয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকা পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। চেকপোস্ট, বিশেষ টহল ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এলাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ পর্যন্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬জন। তারা হলেন, ল্যাংড়া খোকন, মারুফ, জিয়াউর রহমান, সাকলাইন হোসেন, সাকিব ও শাহেদ।
পতাকানিউজ/আরএস/কেএস

