রাউজানে টিলা কাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আবারও রক্ত ঝরল। শুক্রবার (রাত আনুমানিক তিনটার দিকে) পৌরসভার পূর্ব আইলি খীল খামার টিলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) নামের এক যুবক।
নিহত বাবলু রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকার আবুল কালাম সওদাগরের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামার টিলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে টিলার মাটি কেটে বিক্রি করা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাবলু ও তার মামাতো ভাই পলিন ওই এলাকায় টিলা কাটা ও মাটি বিক্রির কাজে যুক্ত ছিলেন। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
তবে নিহতের পরিবার ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। বাবলুর বাবা আবুল কালাম সওদাগর বলেন, ঘটনাস্থল মূলত তার নানার বাড়ির এলাকা। সেখানে পারিবারিক দাওয়াত খেতে গিয়েছিল বাবলু। ফেরার পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এদিকে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে, বাবলু মাছ ধরতে গিয়েছিলেন -ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সহিংসতা ও আধিপত্য বিস্তার রাজনীতি চলছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত প্রায় ১৯ মাসে এই এলাকায় অন্তত ২২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক সংঘর্ষে বিএনপির ১৬ জন, আওয়ামী লীগের ৫ জন এবং পারিবারিক বিরোধে আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য থেকে জানা যায়।
এর আগেও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, টিলা দখল, মাটি ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পুনরায় সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার নজির রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়গুলোতে ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের পর এলাকায় উত্তেজনা বাড়ার ইতিহাসও রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, টিলা কাটা ও জমি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বই অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির মতো ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।
-পতাকানিউজ

