চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট ব্রিজের কাছে চাঞ্চল্যকর রাউজানের ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে, পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আজিজ জানান, ‘হাটহাজারী থানার মদুনাঘাটে গত ৭ অক্টোবর সংঘটিত আব্দুল হাকিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।’
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আব্দুল্লাহ খোকন প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন, মো. মারুফ, সাকলাইন হোসেন, জিয়াউর রহমান। এর মাঝে খোকন উপজেলার বাগোয়ানের লাম্বুরহাট এলাকার এবং বাকি ৩ জন নোয়াপাড়ার পলোয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাকলাইন হোসেনকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সে হত্যার সাথে জড়িত ছিল না বলে জানান পুলিশ।
জানা যায়, আব্দুল হাকিম হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর রাউজান থেকে আব্দুল্লাহ খোকন প্রকাশ ল্যাংড়া খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন হাকিম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পরে গত ২ নভেম্বর রাউজানের চৌধুরীহাট থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারুফ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়, যা সাকলাইন হোসেনের হেফাজতে ছিল। পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর রাউজানের নোয়াপাড়া থেকে সাকলাইন হোসেনকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর আগে এই হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে জিয়াউর রহমানসহ মোট ৪ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১২ জন আসামির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ব্যবসায়ী হাকিম নিজের গাড়িতে করে শহরে ফিরছিলেন। মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও হাটহাজারী থানা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তিনি উপজেলার পাঁচখাইন এলাকার বাসিন্দা এবং রাউজানের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অনুসারী ছিলেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, ‘রাউজান এলাকার বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডসহ জেলার অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট, টহল ও রাত্রীকালীন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সহিংসতায় এ উপজেলায় মোট ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর যুবদলের কর্মী মো. আলমগীর প্রকাশ আলমকে গুলি করে খুন করা হয়।
পতাকানিউজ/এএইচ

