রাজধানীর খিলখেত বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মেছের আলীকে বিষাক্ত দ্রব্য খাইয়ে হত্যা করার অভিযোগে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার দশম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এই রায় দেন।
যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত আসামি হলেন মো. রমজান আলী। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার দিগজান গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে।
হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি নিহতকে বিষ খাওয়ানোর অপরাধে রমজান আলীকে আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। এই মামলায় জামিন পেয়ে তিনি পলাতক হন। আদালত রায় উল্লেখ করেছেন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সাজা কার্যকর হবে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মেছের আলী ২০২৩ সালের ২০ মে রাত ১১ টার দিকে খিলক্ষেতের বড় বরুয়ার বাসা থেকে বের হন। ওই রাতে তিনি বাসায় ফিরবেন না বলে জানিয়ে যান। তবে আর তিনি বাসায় ফেরেননি। তিনদিন পর ২৩ মে বিকাল অনুমান ৪ টার সময় খিলক্ষেত খানাধীন বড় দরখাস্থ বোয়ালিয়া খাল সংলগ্ন আশিয়ান হাউজিং প্রজেক্টের বালুর চরে তার মৃত্যু দেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ওই অপমৃত্যু মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনা স্থলের আশেপাশের থেকে বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এসব আলামত এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায় এটি একটি হত্যাকান্ড।
পরে মেছের আলীর স্ত্রী খাদিজা বেগম ৪ জুন খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, সবজি ব্যবসায়ী মেছের আলীর কাছে থাকা টাকা আত্মসাতের জন্য তাকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার জন্য বালুচরে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ খিলগাঁও থানা পুলিশ আসামি রমজান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
-পতাকানিউজ/এএ

