দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম মহানগরে বিএনপির রাজনীতি ছিলো আবদুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ ও দস্তগীর চৌধুরীদের হাতে। পরবর্তীতে সেখানে যুক্ত হন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। উত্তরে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এবং গোলাম আকবর খোন্দকার। পরে কেন্দ্রের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন উত্তরের আরেক কৃতিসন্তান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। উত্তর চট্টগ্রামের তিন সংসদীয় আসন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং ফটিকছড়ি-যেখান থেকেই তিনি নির্বাচন করেছেন সেখান থেকেই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীতে রাউজান বিএনপির নিয়ন্ত্রণে ভাগ বসান তার ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
আর দক্ষিণে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বিএনপি থেকে বের হয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান হওয়া কর্নেল (অব) অলি আহমদ বীরবিক্রম। দক্ষিণ জেলা থেকে বিএনপি সরকারের সর্বশেষ মন্ত্রী হন বাঁশখালীর জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।
এঁদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, দস্তগীর চৌধুরী, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এবং জাফরুল ইসলাম চৌধুরী মারা গেছেন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফাঁসি হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদ স্থগিত করা হয় সাম্প্রতিক এক সংঘর্ষের ঘটনার জেরে। অপরদিকে বিলুপ্ত করা হয় গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটিও।
পুরোনো এসব নেতাদের মধ্যে পুরোদমে সক্রিয় আছেন কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে, চট্টগ্রামে রাজনীতির মাঠ দখলে নিয়েছেন পুরোনোদের উত্তরসুরীরা। দ্বিতীয় প্রজন্মের এসব তরুণ নেতৃত্ব পালন করছেন দলের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিগত সরকারের আমলে কেউ কেউ সয়েছেন জেল জুলুম মামলা হামলাসহ নানা প্রতিকূলতা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে পুরোদমে সক্রিয় এই তরুণ নেতারা। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এদের অনেককেই দেখা যেতে পারে প্রার্থী হিসেবে।
এদের মধ্যে আছেন, বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান, জ্যেষ্ঠ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, গোলাম আকবর খন্দকারের ছেলে তারেক আকবর খন্দকার, প্রয়াত দস্তগীর চৌধুরীর ছেলে ফয়সাল দস্তগীর চৌধুরী এবং আরেক প্রয়াত নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর ও মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পান্না।
এদের মধ্যে ৭জন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ৬টি পৃথক আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে পতাকানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রামের এই তরুণরা প্রায় সবাই দেশের বাইরে পড়ালেখা করেছেন। নিজ নিজ পেশায় সবাই প্রতিষ্ঠিত। কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষাবিদ, কেউ পারিবারিক ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষতার সাথে। উচ্চ শিক্ষিত, স্মার্ট, তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ এসব তরুণরাই হতে চলেছে চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যত কান্ডারি।

বন্দর-পতেঙ্গায় নজর ইসরাফিল খসরুর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সন্তান ইসরাফিল খসরু। তাঁর দাদা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান আমলে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী। বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল। চট্টগ্রাম শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন ইসরাফিল খসরু।
ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর এক বড় অংশ তরুণদের প্রতারিত করা হয়েছে। তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। আমার মূল মন্ত্র ছিল সবসময় দলের জন্য কাজ করে যাওয়া এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো।’
‘মানুষ বিগত ১৫ বছর যা পারেনি তা এবার সম্ভব হবে। বিগত সরকারের দায়িত্বপালনকালে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। তৃণমূলের সাথে থেকে তখনই কাজ শুরু করি। নিজের নির্বাচনী এলাকায় ও মানূষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম-১০ এ মনোনায়ন চাইবেন সাঈদ আল নোমান
বিএনপির আরেক তরুণ তুর্কি সাঈদ আল নোমান তূর্য। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের সন্তান তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান ছাত্র রাজনীতি ও শ্রমিক রাজনীতির ধারা পেরিয়ে হয়েছিলেন জাতীয় নেতা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে নোমানের জানাজায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্যে ছেলে সাঈদ আল নোমান বলেছিলেন, ‘বাবা চেয়েছিলেন আমাদের দুই ভাইবোনের দ্বারা যেন শুধু মানুষের সেবা হয়। আমার বাবার রাজনৈতিক জীবন ৬৮ বছরের। আমার এই জীবনে যত মানুষের সাথে আমার দেখা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ কখনো না কখনো বলেছে, তারা নোমান ভাইয়ের দ্বারা কোনো না কোনো উপকার পেয়েছেন।’
চট্টগ্রামে বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ আল নোমান শিক্ষাখাতেই বেশি সক্রিয় ছিলেন অতীতে। বাবার মৃত্যুর পর তিনি সক্রিয় হন রাজনীতিতে। সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী পাঠ শ্রমিক দলের সভাপতির পদ পেয়েছেন তিনি। সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে চট্টগ্রামের মানুষের সেবা করে যাব। তাঁর দেখানো পথেই চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করব। বিএনপি সরকারের সময় চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, যার অন্যতম রূপকার ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু, ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এসব উন্নয়নকাজে ভূমিকা রেখেছেন।’

মীর হেলাল নগর নাকি হাটহাজারীতে
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় বেশ কয়েক বছর ধরেই। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মীর নাছির বিএনপি সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৪ সাল থেকে পরের দুই বছর সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা নিস্ক্রিয় রয়েছেন এ নেতা।
বিএনপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ এই নেতার ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মানুষের মন জয় করেই রাজনীতি করতে চান। মীর হেলাল বলেন, ‘যদি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সফল হতে চান, মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে চান এবং মানুষের আস্থার পাত্র হতে চান তাহলে মানুষের সাথে আত্মার সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এটা হঠাৎ করে হয় না। দীর্ঘদিনের পথচলার মধ্য দিয়েই এটা হয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন দলীয় নেতাকর্মী, সিনিয়র নেতা এবং আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা-হামলায় নির্যাতিতদের আইনি সহযোগিতা দিয়ে আসছি। দলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’
বক্তব্যের সাথে মিল রেখে বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহর ও হাটহাজারী দুই জায়গাতেই দলীয় কর্মকাণ্ডে পুরোদমে সক্রিয় তিনি। তাই, দুই জায়গাতেই দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এ তরুণ নেতা।

হাটহাজারীতে আছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা
হাটহাজারী আসনে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন আরেক প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ছিলেন হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত চারবারের সংসদ সদস্য। তবে শুধু বাবার পরিচয়ে নয় রাজনীতিতে নিজের পরিচয় ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক শাকিলা ফারজানা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে তিনি ১০ মাস কারাভোগ করেছেন।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিনিধি হয়ে জনগণের ভোটে চারবার সংসদ-সদস্য ছিলেন আমার বাবা। দল আমাকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন দেয়। তখন জোটের কারণে অন্য একজনকে সুযোগ দিতে হয়েছিল। গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে দলীয় নেতাকর্মী, সিনিয়র নেতা এবং আলেমদের সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা করেছি। এজন্য মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে জেলে যেতে হয়েছিল। এখনো আমি মাঠে পুরোদমে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি।
এই আসনে অন্য আরেকজন প্রার্থী মীর হেলালের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একই দলের, হেলাল সাহেবও মাঠে কাজ করছেন, আমরাও করছি। দল বিবেচনা করে যাকে দেবে, আমরা তার সাথে কাজ করবো।

রাঙ্গুনিয়ায় নজর হুম্মাম কাদেরের
উত্তর চট্টগ্রামের আরেক সংসদীয় আসন রাঙ্গুনিয়াতে এক সক্রিয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তাঁর বাবা প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। হুম্মামের দাদা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার। হুম্মামের চাচা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এখন বেশি সক্রিয় রাউজান উপজেলা ঘিরে। তাই রাঙ্গুনিয়াকেই পাখির চোখ করে আগাচ্ছেন হুম্মাম।
নিজেকে রাঙ্গুনিয়ার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনে মানুষ দীর্ঘদিন ঘরে থাকতে পারেনি। বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করেছিল। তখন যতটুকু পেরেছি তাদের পাশে ছিলাম। আমার বাবা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সকলে জানতো রাঙ্গুনিয়ার সন্তান হিসেবে। নমিনেশন হোক আর না হোক, প্রার্থী আমি হই আর না হই, আমি রাঙ্গুনিয়ার সন্তান। বাবা থেকে শিক্ষা পেয়েছি, যাদেরকে বুক দিয়েছি, তাদেরকে পিঠ দেবো না। রাঙ্গুনিয়ার মানুষ আমার বিপদে আমাকে বুক দিয়েছেন। যতদিন বেঁচে আছি উনাদের পাশে থাকবো।

রাজনৈতিক ইনস্টিটিউট করতে চান তারেক আকবর
বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা গোলাম আকবর খন্দকার অতীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উত্তর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে বেশি মনযোগী। তাঁর ছেলে তারেক আকবর খন্দকার কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকেই সক্রিয় আছেন রাজনীতিতে। ২০১২ সালে লন্ডন কলেজ অব ল’ থেকে বার-এট-ল পাস করেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে ইয়ুথ ভয়েস নামের একটি সংগঠন নিয়ে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার তরুণকে সাথে নিয়ে শুরু করেন সামাজিক কার্যক্রম।
তারেক আকবর খন্দকার বলেন, ইয়ুথ ভয়েস শুরু করার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে কথা বলেছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম যে আমি তরুণদের সম্পৃক্ত করে কাজ করতে চাই। সবাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, কিন্তু আমি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু করার চেষ্টা করেছি। তিনি আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন।
রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে তারেক আকবর খন্দকার বলেন, আমি বিশ্বাস করি তরুণদের রাজনীতিতে প্রবেশ করা উচিত। আমি এমন একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে তরুণরা এবং নতুন রাজনীতিবিদরা নেতৃত্বের দক্ষতার উপর কোর্স করতে পারে। আমি কেবল রাজনীতির জন্য নয়, ব্যবসা, কর্পোরেট জীবন এবং শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করতে চাই। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরণের একটি নেতৃত্ব ইনস্টিটিউট রয়েছে। আমার লক্ষ্য হল একই ধরণের ইনস্টিটিউট তৈরি করা। ভবিষ্যতে যারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে চান তারা এখান থেকে নির্দেশনা পেতে পারেন। আমি রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই।

বাবার স্বপ্নকে সার্থক করতে চান ফয়সাল দস্তগীর
বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত দস্তগীর চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর চৌধুরী। এক এগারোর পর তিনিই চট্টগ্রামের প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের অবৈধ শাসনামলেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে কঠিন সময়ে রাজনীতি করেছেন। অতীতে শহরের ডবলমুরিং আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর চৌধুরী। তবে এবার তাঁর আগ্রহ নগরীর কোতোয়ালী আসন ঘিরে। আইন পেশায় নিয়োজিত ফয়সাল দস্তগীর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্রীড়া জগতেও ঠাঁই করে নিয়েছেন একজন সংগঠক হিসেবে।
ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, সুন্দর ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান প্রণীত ৩১ দফা দেশবাসীর জন্য এক আলোকবর্তিকা। আমরা জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। আজ আমার বাবা নেই। তাঁর অনুপস্থিতি আমাকে কষ্ট দেয়। আমি তাঁর স্বপ্নকে সার্থক করতে কাজ করে যাব।

বাঁশখালীতে জাফরুলের দুই সন্তান
প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯৬-৯৭ সালে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ছিলেন। বিএনপি সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হন জাফরুল ইসলাম। পরে ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং ২০১০ সালে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ছেলে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাও সক্রিয় বাঁশখালীর রাজনীতিতে। মিশকাতুল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘বাঁশখালীবাসীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা আমার অঙ্গীকার। দলের দুর্দিনে জনগণের পাশে ছিলাম এখনো আছি, আগামীতেও থাকবো। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেন, তবে আমি জনগণের সমর্থন নিয়ে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করব।’
জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর বলেন, ‘আমার বাবা বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাঁশখালীর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন উন্নয়ন ও সততার প্রতীক। পিতার হাতেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। তার সঙ্গে ছায়ার মতো বাবার আদর্শ ধারণ করে বাঁশখালীর মানুষের সেবা করতে চাই।’
একই পরিবারের দুইজন প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে অনেক তদন্ত হচ্ছে। অনেকে আমাদের সাথে কথা বলছেন, সেক্ষেত্রে দল বিবেচনা করবে।’
পতাকানিউজ/এমসি/এএস/কেএ

