রাশিয়ার রাতভর তীব্র বিমান ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার, ৮ নভেম্বর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া নয়টি অঞ্চলে একযোগে হামলা চালিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো মধ্য ইউক্রেনের দ্নিপ্রো শহর, যেখানে একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। অন্ধকার রাতে হামলার মুহূর্তটি ভিডিওতে ধরা পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আবাসিক ভবনগুলোতে হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বেঁচে যাওয়া এক নারী লারিসা জানান, সব টুকরো এসে পড়েছিল আমার বিছানায়, যেখানে আমি ঘুমাচ্ছিলাম। আমি বেঁচে আছি, সেটাই অবিশ্বাস্য।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এক রাতেই মোট ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যার মধ্যে মাত্র ৯টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি প্রায় ৪৫০টি ড্রোন ছোড়া হয়, যেগুলোর মধ্যে ৫২টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলাগুলো মূলত পলতাভা, দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক ও রাজধানী কিয়েভ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী সভিতলানা গ্রিনচুক বলেন, রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে টার্গেট করেছে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।
রাশিয়ার সর্বশেষ ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বহু অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙে পড়েছে, প্রাণহানি ঘটেছে অন্তত ১০ জনের এবং দেশজুড়ে জরুরি সেবা চালু করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
পতাকানিউজ/এনএফএম

