বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, তথ্য, বিনোদন এবং মত বিনিময়ের অন্যতম ক্ষেত্র।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে শর্ট ভিডিও বা রিলসের প্রতি তরুণ সমাজের আকর্ষণ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে দ্রুত বিনোদন পাওয়ার প্রবণতা এখন অনেকের জন্য নেশায় পরিণত হয়েছে। এতে করে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন স্ক্রিনে ডুবে থাকে, অথচ সেই সময় তারা কোনো গঠনমূলক কাজে ব্যয় করছে না। পড়াশোনা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, কিংবা পরিবার সবকিছুর জায়গায় এখন মোবাইলই প্রধান সঙ্গী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিলস বা শর্ট ভিডিওর প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা অন্য যেকোনো নেশার মতো এডিকশন তৈরি করে। এর ফলে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ধৈর্যশক্তি হ্রাস পায় এবং গভীরভাবে চিন্তা করার প্রবণতা কমে যায়। শুধু তরুণরাই নয় কিশোর থেকে বয়স্ক পর্যন্ত সকল বয়সী মানুষই এই আসক্তির মধ্যে ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, কিংবা সৃজনশীল কাজ করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর।

