টানটান উত্তেজনা, দম বন্ধ হয়ে আসা পরিস্থিতি। সব ছাপিয়ে বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে জয় তুলে নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩ ম্যাচ সিরিজ ড্র করলো শাই হোপের দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে জয় তুলতে পারেনি কোনো দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর এলো কাঙ্খিত ফল। সুপার ওভারে শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ৩ রান। ক্রিজে ছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু তিনি মাত্র ১ রান নিলে ক্যারিবিয়ানরা জয় পায় ১ রানে।
১১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। প্রথম বলেই ওয়াইড করেন আকিল হোসেন। পরের বল নো বল — কোনো বৈধ বল করার আগেই ক্যারিবীয় স্পিনারের খরচ হয় ৪ রান। ফলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ৬ রান।
প্রথম বৈধ বলে সৌম্য নেন এক রান। দ্বিতীয় বল ডট, তৃতীয় বলে সাইফ নেন এক রান। চতুর্থ বলে সৌম্য আউট। নতুন ব্যাটার শান্ত এসে পঞ্চম বলে এক রানের বেশি নিতে পারেননি। ষষ্ঠ বলে আকিলের আরেকটি ওয়াইডে সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ১ বলে ৩ রানে। শেষ বলে সাইফ নিতে পারেন মাত্র এক রান। বাংলাদেশ থেমে যায় ২১৩-র পরেই, জিততে পারেনি নাটকীয় এই ম্যাচে।
এর আগে সুপার ওভারে বাংলাদেশের হয়ে বোলিং করেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলে এক রান দেন হোপ, দ্বিতীয় বলে রাদারফোর্ডকে ফেরান। পরের তিন বলে মাত্র ৫ রান খরচ করলেও শেষ বলে বাউন্ডারি হজম করেন ফিজ। ফলে এক উইকেট হারিয়ে ১০ রান তুলে উইন্ডিজ।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে। জবাবে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সমান ২১৩ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ইনিংসের শুরুটা দারুণ করেন বাংলাদেশের বোলাররা। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ নতুন বল তুলে দেন নাসুম আহমেদের হাতে। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ব্রেন্ডন কিংকে এলবিডব্লিউ করে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন এই স্পিনার।
প্রথম থেকেই দুই প্রান্তে স্পিন আক্রমণে যান মিরাজ। অন্য প্রান্ত থেকে বোলিংয়ে ছিলেন অধিনায়ক নিজেই। তবে আলিক আথানজে ও কেসি কার্টির দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভালোভাবেই সামলে নেয় ইনিংস। এই জুটিকে ভাঙেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনিই ফিরিয়ে দেন কার্টিকেও।
এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন আক্যাম অগাস্টে, শারেফানে রাদারফোর্ড ও রোস্টন চেস। ১৩৩ রানে সপ্তম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পরে শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রেভসের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে অতিথিরা। ৪৪ রানের সেই জুটি ভাঙেন মিরাজের থ্রোতে গ্রেভস রানআউট হয়ে।
শেষ দিকে হোপের সঙ্গে আকিল হোসেন যোগ দেন। আকিল ১৬ রান করে ফিরলেও হোপ অপরাজিত থাকেন ৫৩ রানে, দলকে সমতায় এনে দেন একাই।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে সাবধানী ছিলেন সৌম্য ও সাইফ। তবে ১৬ বলে ৬ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর তিন নম্বরে প্রমোশন পেয়ে ব্যাট করতে আসেন তাওহিদ হৃদয়, কিন্তু ব্যর্থ তিনি—১৯ বলে ১২ রান করে ফেরেন।
নাজমুল হোসেন শান্তও স্থায়ী হতে পারেননি। ২১ বলে ১৫ রান করে ধরা পড়েন। অঙ্কনও একইভাবে ৩৫ বলে ১৭ রানে আউট হন। এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করছিলেন সৌম্য সরকার। দারুণভাবে ইনিংস গড়ে তুললেও ৫০ এর আগে ধৈর্য হারান—ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন। ৮৯ বলে ৪৫ রানে থামেন তিনি।
নাসুম আহমেদকে সাতে পাঠিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট পায় কিছুটা সাফল্য—১৪ রান করেন তিনি। পরে সোহান এসে ২৪ বলে ২৩ রানের ছোট্ট ইনিংস খেলেন। ৪৬তম ওভারে যখন সোহান আউট হন, তখন দলের রান ১৬৩। সেখান থেকে দুইশর পথ পেরোতে ঝড় তোলেন রিশাদ হোসেন। মাত্র ১৪ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহে পৌঁছে দেন তিনি।
অধিনায়ক মিরাজ সঙ্গ দেন ৫৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করে। শেষ পর্যন্ত লড়াই জমে ওঠে সমানে-সমান, কিন্তু সুপার ওভারে ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশ দলের। তবুও মিরপুরের দর্শক পেয়েছে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচের পূর্ণ স্বাদ।
পতাকানিউজ/কেএস

