রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ ৭ টুকরো করার মামলায় গ্রেপ্তার শাহিন আলমকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ আগেশ দেন।
এর আগে আজ দুপুরের পর আসামি শাহিনকে আদালতে হাজির করে মতিঝিল থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহরিন হোসেন তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের মতিঝিল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে যুবকের কাটা হাত-পা উদ্ধার হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ২১ বছর বয়সী শাহিন আলম। গ্রেপ্তারের পর তিনি স্বীকার করেন নিহত যুবক ওবায়দুল্লাহ তার রুমমেট। শাহিন মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। তিনি ও নিহত ওবায়দুল্লাহ একই ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে থাকতেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এটা নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আসামি এবং নিহত ওবায়দুল্লাহ রুমমেট ছিলেন। আসামি হোটেলে কাজ করতেন। আর ভিক্টিম একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাদের ভেতরে মনোমালিন্য হয়। এর জেরে ভিকটিমকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপ দেয় আসামি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি বাসায় চাপাতি এনে রাখেন। ভিকটিমকে কুপিয়ে পুরো শরীর দুই ভাগ করেন আসামি হৃদয়। পুরুষাঙ্গ আলাদা করেন। ভিকটিমের শরীরের কিছু অংশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এখনও দুটি অংশ উদ্ধার হয়নি। এজন্য বাকি অংশ উদ্ধার ও এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা বের করতে ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
এদিকে আসামি শাহিনের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না। আদালত বারবার আসামির কাছে এভাবে হত্যার কারণ জানতে চান। জবাবে আসামি প্রথমে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষ’। পরে আদালত কী নিয়ে বিরোধ জানতে চান এবং কুপিয়ে এত টুকরা করে একেকটা অংশ একেক জায়গায় কীভাবে নিলেন তা জানতে চান। আসামি বলেন, ‘বাড়িতে আম্মা অসুস্থ, কিছু টাকা অ্যাডভান্স ছিল তার কাছে। তার আচরণ ভালো লাগেনি, এসব নিয়ে ঝামেলা ছিল। ‘
প্রসঙ্গত, ওবায়দুল্লাহকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা হামিদ মিঞা বাদী হয়ে গত রবিবার মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

