ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার জ্বালানিনির্ভরতা থেকে মুক্তি পেতে আরও একধাপ এগিয়েছে। রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ নির্ভরতা পুরোপুরি শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) গৃহীত নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউরোপে রুশ পাইপলাইন ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বন্ধ থাকবে। তবে পুরোনো চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু দেশকে সময় দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ জুনের আগে স্বাক্ষরিত স্বল্পমেয়াদি চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চালু থাকবে, আর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মেয়াদ থাকবে ২০২৮ সালের শুরু পর্যন্ত।
এই উদ্যোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিপাওয়ার ইইউ’ কর্মসূচির অংশ, যার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা। প্রতিটি সদস্য দেশকে এখন নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিকল্প সরবরাহের পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
তবে আইনটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দুই বছরের মাথায় পর্যালোচনা করবে ইউরোপীয় কমিশন। যদি সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়, তখন সাময়িক ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখছে ইইউ। সম্প্রতি ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে না পারায় রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে ইউরোপে রুশ তেলের আমদানি কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য অংশ রাশিয়া থেকেই আসে—মোট আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ। এর বার্ষিক বাজারমূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বলে জানায় ইউরোপীয় কমিশন।
ইইউর এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি কৌশলগত বার্তাও—রাশিয়ার জ্বালানি প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ইউরোপ নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে ইউরোপে বিকল্প উৎস—বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার জ্বালানি সরবরাহ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়া ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পতাকানিউজ/এনটি

