রোদে ঘাম। অস্থিত্বকর বিষয়। কাজের প্রয়োজনে তো আর ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। তাই যেতে হয় বাইরে। আর বাইরে গেলেও রোদেপুড়ে মেকআপ নষ্ট হয়। গাম হয় বেশি। তখন অনেকেই ভাবেন, ‘কেন অন্যদের চেয়ে আমার ঘাম বেশি?’
যদিও চিকিৎসকরা মনে করেন, এটা অনেকটা স্বাভাবিক একটা সমস্যা। কিন্তু কারো কারো বেশি ঘাম হতেই পারে। তাই অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণ না করলে জীবন কিছুটা কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে বৈ কি।
ঘামের উৎপত্তি মূলত শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। গরম বা ব্যায়ামের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তখন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস স্বেদগ্রন্থিকে সংকেত দেয় ঘাম ঝরানোর জন্য। এই ঘাম ত্বকের তাপকে কমিয়ে শরীরকে শীতল রাখে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হাইপারহাইড্রোসিস নামের সমস্যা থাকে। এদের ঘাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়, এমনকি ঠাণ্ডা বা অল্প গরমের মধ্যেও।
সাধারণত বাজারে ঘাম কমানোর কিছু ঔষধ পাওয়া যায়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে নেওয়া উচিৎ নয়। তাই অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যার সমাধান খোঁজেন।নিয়মিত এবং সঠিক পদ্ধতিতে কিছু প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করলে ঘাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ঘরোয়া প্রতিকার
আইস ফেশিয়াল :
বরফ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা দ্রুত ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং চোখ-মুখের ফোলা ভাব কমায়। তবে সরাসরি ত্বকে বরফ ঘষা ঠিক নয়। বরফকে সুতির কাপড় বা তোয়ালেতে মুড়ে আলতো করে মুখে বুলাতে হবে। এক জায়গায় বেশি সময় ধরে রাখলে ত্বকে পোড়া বা দাগ হয়ে যেতে পারে।
শসা ও গোলাপ জল:
শসার রস ত্বক ঠান্ডা রাখে, আর গোলাপ জল আর্দ্রতা বজায় রাখে। এক চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে শসার রস স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। দিনে কয়েকবার মুখে স্প্রে করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং ঘাম কম হয়।
চন্দন ও মুলতানি মাটি প্যাক:
চন্দন ত্বকের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, মুলতানি মাটি অতিরিক্ত তৈল ও ঘাম শুষে নেয়। দুইটি উপাদান মিশিয়ে ঘন প্যাক বানিয়ে ১৫ মিনিট মুখ ও গলায় লাগান। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম অনেকাংশে কমে।
নিম ও তুলসী প্যাক:
ঘামের কারণে মুখে ব্রণ বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। নিম ও তুলসী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল কাজ করে। এক মুঠো পাতার সঙ্গে মধু মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগান এবং ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করলে ঘামের দুর্গন্ধ কমে এবং ত্বকের চুলকানি কমে।
ওট্স ও লেবুর স্ক্রাব:
ঘামের ফলে মুখে কালচে ছোপ পড়তে পারে এবং ত্বকের রন্ধ্রে ময়লা জমতে পারে। দুই চামচ ওট্স, এক চামচ লেবুর রস এবং সামান্য জল মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। মুখে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমায় এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।
অতিরিক্ত ঘামের প্রতি সতর্কতা
যদি হঠাৎ করে খুব বেশি ঘাম হয় বা ঘাম দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। হাইপারহাইড্রোসিসের ক্ষেত্রে চিকিৎসক কিছু সময়ের জন্য ওষুধ দিয়ে ঘাম কমাতে পারেন। তবে ঘরোয়া প্রতিকার নিয়মিত প্রয়োগ করলে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
গরমের দিনে ত্বককে সতেজ রাখা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং আরামের জন্যও প্রয়োজন। নিয়মিত পরিচর্যা, বরফ, শসা ও চন্দন মিশ্রিত প্যাক ব্যবহার করে মুখ-গলা ঘামের সমস্যা কমিয়ে সুন্দর ও সতেজ ত্বক পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : আনন্দবাজার
-পতাকানিউজ

