চট্টগ্রাম নগরের সড়ক থেকে ফুটপাত, বাজার থেকে ঘাট সব জায়গায় চলছে দখলমুক্ত অভিযান। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন এসব অভিযানে। সাথে সাথে লাইভ দিচ্ছেন ফেসবুকে, ছিঁড়ে ফেলছেন নিজের দলীয় ব্যানারও। শহরবাসী দেখছে এমন এক চসিক মেয়রকে, যিনি নিজেই নেমেছেন মাঠে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই তৎপরতা কতটা টেকসই? কারণ মেয়র চলে গেলেই অভিযান থমকে যায়, ঝিমিয়ে পড়েন কর্মীরা।
ঠিক এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর খাল সংস্কারেও দেখা গেছে, মেয়রের ‘লাইভ’ যেখানে শেষ, স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কারও সেখানেই শেষ। এ যেন শুধু ফেসবুক লাইভের উপর ভর করে চলছে মেয়র ডা. শাহাদাতের কার্যক্রম।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে টাইগার পাস এলাকার নাছির খালের খনন কাজ করে মহানগর যুবদল। কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অভিযান শুরু হওয়ার সাথে সাথে Shahadat Hossain (ডা. শাহাদাত হোসেন) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে যান মেয়র। ফেসবুক লাইভে দেখা যায় খালের ভেতর যুবদল নেতার ছবি সংযুক্ত টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় শতাধিক যুবক খালে নেমে কাজ শুরু করেন। এসময় খালের পাশে দেয়ালে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন মেয়র।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল ১১টায় চসিক মেয়রসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে খাল খননের তোরজোড় দেখা যায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন চৌধুরী ইফতেখার উদ্দিন, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, মহানগর যুবদলের নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, গাজী শওকতসহ যুবদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মেয়র সেখানে প্রায় একঘন্টা উপস্থিত ছিলেন।
কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মেয়র চলে যাওয়ার পর সেখান থেকে সরে যান খোদ উদ্যোক্তা মহানগর যুবদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল ও তার কর্মীরাও। স্থানীয়রা জানান, এই কার্যক্রম চলে মেয়র যতক্ষণ উপস্থিত ছিলো ততক্ষণ। খালের পাড়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ওনারা ফটোসেশন করতে আসছিলেন।’
ঘটনাস্থলে খাল খননের সংবাদ সংগ্রহে গেলে এসকল তথ্য উঠে আসে। সরেজমিন বক্তব্য নিতে প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তখনও কাজ করছিলেন চসিকের কর্মীরা। চসিকের একটি গড়ি চালককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, স্যার চলে যাওয়ারপর ওনারাও চলে গেছেন।
পরবর্তীতে রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমাদের একদিনের কাজ না। আজ মেয়র মহোদয় এসে উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন। ক্রমান্বয়ে কাজ চলবে। এসময় কাজের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, চসিক থেকে আমরা শুধু ইন্সট্রুমেন্ট হেল্প নিয়েছি। এরপর সেখানে কথা বলার জন্য কেউ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা তো চলে এসেছি অতিরিক্ত রোদের কারণে।’
চসিকের খাল খননের অনুমতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মেয়র মহোদয়কে বলে খালটি নিয়েছি। তাই তিনি আমাকে তাদের যন্ত্রপাতি দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হয় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, ‘অনুমতিক্রমে এই খাল তারা পরিষ্কার করে দিচ্ছে। আমি শুধু তাদেরকে ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়েছি। আর তাছাড়া চট্টগ্রামে যতগুলো খাল আছে তা তো আমি একবছরে সব পরিষ্কার করতে পারবো না। আর আমার অত বাজেট ও নাই।’
কিন্তু রুবেল অনুমতি না নেয়ার কথা বলেছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা তো অতকিছু জানে না। আমার কাছে যন্ত্রপাতির জন্য আবেদন দিয়েছে। আমিও তাদের সাহায্য করেছি।
তবে প্রশ্ন এখন, সেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগ কী শুধুমাত্র ফেসবুক লাইভ পর্যন্ত? এ বিষয়ে জানতে চসিক মেয়রের মুঠুফোনে একাধিকবার কল করা হলে সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয় প্রতিবেদক।
পতাকানিউজ/এএস/কেএস

