ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরুতেই শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত পাঠ করা হয়। এরপর সংসদ-সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
এদিকে একই সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা।
শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে আজ সকাল ৯টার পর থেকেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদ ভবনে ঢুকতে শুরু করেন। শপথগ্রহণ ঘিরে সংসদ ভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়ে।
এদিকে নতুন সরকারে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কেনাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট।
অপরদিকে আজ বিকেল ৪টায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবন-এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া।
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, এনসিপি পেয়েছে (১১ দলীয় জোট) ৬টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন, গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১টি আসন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১টি আসন, গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন, খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে ৭টি আসন।
এদিকে অন্য দুই আসন আইনি জটিলতার কারণে আটকে আছে।
পতাকানিউজ/আরবি

