নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সৌজন্যতা ও সমন্বয়ের বার্তা দিতে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর বাসায় যাবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস উইংয়ের দুই কর্মকর্তা শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের মতে, আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটায় তারেক রহমান জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বাসায় যাবেন। এরপর রাত আটটায় তিনি নাহিদ ইসলামের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে যদি সত্যিই বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাত করতে যান, তবে তা হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। স্বাধীনতা পরবর্তী ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের প্রধানরা কখনোই বিজিত দলের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন-এমন নজির নেই।
যদিও বিভিন্ন সময়ে শোকের সময় শীর্ষ নেতারা একে অপরের বাসায় গিয়েছেন। সবশেষ বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমানের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্য দলের নেতারা। ওইদিন তিনি নির্বাচনের পর ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে নিশ্চিত।
বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সৌজন্য বিনিময় এবং সামনের দিনগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতেই এই সাক্ষাৎ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও যোগাযোগ বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা কামনা করে তিনি রাজনৈতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
-পতাকানিউজ

