বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে পুনরায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যুতে রূপ দিতে দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আইসিসি-র স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক একটি স্টেডিয়ামের যে সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, সেই আদলে এটিকে পুনর্গঠন করার জন্য আমরা এখানে এসেছি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, মন্ত্রণালয় এবং ক্রিকেট বোর্ড সবাই একমত হয়েছি যে, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সোমবার, ১৩ এপ্রিল দুপুরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম একসময় আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে পরিচিত থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এখানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। স্টেডিয়ামটির বর্তমান অবস্থা সশরীরে দেখতে ক্রীড়া পরিদপ্তর ও ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে বগুড়ায় আসেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জুলাই মাসে এখানে প্রমিলা বিপিএল আয়োজনের একটি পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। আইসিসির অনুমতি সাপেক্ষে বিপিএল বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ পুনরায় এ মাঠে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বগুড়ায় কোনো আলাদা জেলা স্টেডিয়াম না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বগুড়া বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যেখানে কোনো আলাদা জেলা স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়নি। কেন করা হয়নি, সেই দীর্ঘ ১৭ বছরের ইতিহাসে আমরা যাব না। তবে সরকারের ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজশাহী বিভাগের স্পোর্টস ভিলেজটি ইনশাআল্লাহ এ বগুড়াতেই নির্মাণ করা হবে।
আগামী জুন মাসের অর্থবছর থেকে এ স্পোর্টস ভিলেজ ও ইনডোর সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া সারা দেশে মাঠ সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গঠিত কমিটির কার্যক্রম এবং ৪৯৫টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন তিনি।
স্টেডিয়ামের মালামাল চুরি হওয়া সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান কী অবস্থা এবং কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা চিহ্নিত করেছেন। অতীতের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিইও এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

