ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ উপলক্ষে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে কথা বলে অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের পর আজ শনিবার এসব টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম, পরিমিত আচরণ এবং দায়িত্বশীল অবস্থানের ফলে সারা দেশে নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন ইতিবাচক ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, প্রথমে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান। পরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আলাপ করে নির্বাচনে সাফল্য ও নির্বাচন–পরবর্তী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতেও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে পৃথক বার্তায়ও এই তিন রাজনৈতিক নেতাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠনের প্রধান দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে বিএনপি। দলটির ঘোষণানুযায়ী সরকার গঠন হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
ঘোষিত ২৯৭ সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির মিত্ররা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। সব মিলিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে আরও ৯টি আসন। ফলে জামায়াত ও তার মিত্রদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।
ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
-পতাকানিউজ

