ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্ব এককভাবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হাতে যাচ্ছে। বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স সদস্যদের দায়িত্ব শেষে নিজ নিজ ইউনিটে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী। সভায় পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব নাসরীন জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিগত এক বছরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে এপিবিএন ও বিমানবাহিনীর মধ্যে রেষারেষি দেখা দেয়। কিছুদিন আগে এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজিকে সরিয়ে নেয়া নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর পর্যন্ত গড়ায়।
সভায় ছয়টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বেবিচকের একক কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা, এপিবিএন ও এভসেককে বেবিচকের অধীনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ, যত দ্রুত সম্ভব এপিবিএনকে টার্মিনাল ভবনের ভেতরে দায়িত্ব পালনে ফেরানো, বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্সকে অবিলম্বে মাতৃ সংস্থায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ, প্রতি সপ্তাহে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত সভা আয়োজন ও বেবিচককে ভবিষ্যতে অপারেটর ও রেগুলেটর হিসেবে পৃথক ভূমিকা পালনের প্রস্তাব।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে ‘আনসার বিদ্রোহে’ হাজারখানেক আনসার দায়িত্ব ফেলে চলে গেলে অস্থায়ীভাবে বিমানবাহিনীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে পরে এপিবিএন ও এভসেকের মধ্যে অফিস কক্ষ ও দায়িত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। যাত্রী হয়রানিসহ বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে দুই বাহিনীর সম্পর্কে উত্তেজনাও বাড়ে।
বৈঠকের সভাপতি লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থানে কাজের ক্ষেত্রে আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা অপরিহার্য। আমাদের কথাবার্তা ও কাজের প্রতি পেশাদারিত্ব ও সম্মান দেখাতে হবে।
পতাকানিউজ/এআই

