জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে রবিবার (০৩ আগস্ট) রাজধানীতে পাশাপাশি দুটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পৃথক সমাবেশের আয়োজন করেছে। উভয় স্থানে সকাল থেকে নেতা-কর্মীদের সমাগম বাড়ছে, আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কঠোরভাবে।
শাহবাগে ছাত্রদলের সমাবেশের মূল মঞ্চ বসানো হয়েছে টিএসসির দিকে মুখ করে। কেন্দ্রীয় নেতারা দুপুরের আগেই উপস্থিত হন। মূল কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা দুপুর ২টায়। অন্যদিকে, শহীদ মিনারে বিকেল ৪টায় শুরু হবে এনসিপির সমাবেশ, যেখানে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। মঞ্চে বিছানো হয়েছে লাল কার্পেট, আর চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল পর্দা, যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নানা মুহূর্ত প্রদর্শিত হচ্ছে।
উভয় সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। শাহবাগ থেকে কাঁটাবন মোড়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়, শাহবাগ থানা হয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। যানবাহনকে বিকল্প পথে পাঠানো হচ্ছে, যদিও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে। শহীদ মিনার এলাকায়ও রয়েছে পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডের টহল।
ছাত্রদলের সমাবেশে অংশ নিতে আসা অনেকেই কপালে ও মাথায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা বেঁধেছেন, পরেছেন সংগঠনের লোগোযুক্ত ব্যান্ড। হাতে রয়েছে ছাত্রদল ও বিএনপির পতাকা। সমাবেশস্থলে গর্জে উঠছে স্লোগান—‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমানের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’।
বরিশাল থেকে আসা ছাত্রদল নেতা রহমতউল্লাহ, যিনি গণ-অভ্যুত্থানে আহত হয়েছিলেন, বলেন, ‘সমাবেশ থেকে একটাই দাবি—জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ যেন কার্যকর করা হয়। আমরা বাংলাদেশের সব মানুষকে মুক্তি দিয়েছি, ফ্যাসিবাদ থেকে উদ্ধার করেছি। এখন আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার সময়।’
রাজধানীর পল্লবী থেকে আসা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য ইয়াহিয়া কাজল বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খুনি হাসিনার পতন হয়েছে। তাই আজকের এই সমাবেশে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা আশা করি আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেবেন।’ তাঁর মতে, আগামী দিনে ছাত্র-জনতা কীভাবে দেশ গঠনে ভূমিকা নেবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ শুভ বলেন, ‘আশা করছি তারেক রহমান দেশ, জাতি ও ছাত্রসমাজের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং ছাত্রদলকে নির্দেশনা দেবেন। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব, ইনশা আল্লাহ।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘অতীতে ছাত্ররাজনীতি কলুষিত ছিল। এর বিপরীতে একটি সুনির্দিষ্ট, গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
এনসিপির বংশাল থানার সংগঠক শাকিল জানান, তাদের সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মী কাজ করছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা মিলছে।
এনসিপির সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক বলেন, ‘গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় এনসিপির ওপর হামলা হয়েছে। পাশেই ছাত্রদলের সমাবেশ থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজ শহীদ মিনারে গত বছরের মতোই জনসমুদ্র হবে।
ছাত্রদলের সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। এনসিপির সমাবেশে বক্তব্য দেবেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিকে, শাহবাগের আশপাশের সড়ক বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মালিবাগ থেকে শিশুসন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ থাকায় দোয়েল চত্বর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে হাসপাতালে এসেছি। এখন ফেরার পথে মৎস্য ভবন পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে গাড়ি পেলে মালিবাগ যাব।’
পতাকানিউজ/এনটি

