বগুড়ার শিবগঞ্জে ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গাংনগর মেলায় মানুষের ঢল নেমেছে। একসময় এ মেলার মূল আকর্ষণ ছিল হরেক রকমের মসলা, হলুদ, রসুন, পেঁয়াজ আর শুকনা মরিচের পাইকারি বেচাবিক্রি। এখন সেখানে স্থান করে নিয়েছে বড় বড় মাছ বিক্রি এবং হরেক পদের মিষ্টি-মিষ্টান্ন দোকান। মেলায় প্রসিদ্ধ ছিল কাঠের আসবাবও। বিনোদনের জন্য থাকত যাত্রা, সার্কাস, পুতুলনাচ আর চলচ্চিত্র তারকাদের অংশগ্রহণে বিচিত্রানুষ্ঠান।
মেলার আয়োজকেরা জানান, প্রায় ৪০০ বছর ধরে বৈশাখ মাসের প্রথম সোম বা বৃহস্পতিবার যে দিনটি আগে আসে, সেই দিনেই বসে গাংনগরের মেলা। এবার বৈশাখ মাসের প্রথম শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। মেলা উপলক্ষে আশপাশের প্রায় অর্ধশত গ্রামে ঘরে ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে স্বামী-সন্তানসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মেয়েরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনেরাও নিমন্ত্রণ খেতে এসেছেন।
গাংনগর মাঝপাড়া গ্রামের প্রবীণ শংকর মোহন্ত জানান, এ মেলা ৪০০ বছরের পুরোনো। প্রায় ৪০০ বছর আগে এখানে ‘শিবসাগর’ নামে ১৮ বিঘা আয়তনের একটা পুকুর খনন করা হয়।
কথিত আছে, শিবের জল খাওয়ার জন্য একজন হিন্দু জমিদার এ পুকুর খননের পর শিবপূজার মাধ্যমে মেলার গোড়া পত্তন হয়।
মেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবার বৈশাখ মাসের প্রথম শুক্রবার শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। মেলা উপলক্ষে উৎসবের কোন কমতি নেই। মেলা উপলক্ষে আশেপাশের গ্রামের আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জামাইরা বড় বড় মাছ কিনে, মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি কিনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসেন।
সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা যায়, গাংনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসেছে মেলার মূল অংশ। তবে মেলার পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত। এখনও আগের মতোই বাহারি রসগোল্লা, নানা পদের মিষ্টির পসরা রয়েছে। মাটির হাঁড়িতে বিক্রি হচ্ছে রসগোল্লা। আছে নিমকি, খাজা, কদমা, খাগড়াই, বাতাসা, জিলাপি, হাতি ঘোড়ার ছাঁচ, মুড়ি-মুড়কি, মাছ আকৃতির মিষ্টি, বালিশ মিষ্টিসহ হরেক রকমের মিষ্টি পণ্য। মেলায় মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন আসবাবপত্র, মশলা, ছোটদের খেলনাসহ বড় বড় মাছের দোকান বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত মেলা প্রাঙ্গন। বিনোদনের জন্য সার্কাস ও হোন্ডা খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
দেউলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার বৈশাখ মাসের প্রথম ছিল শুক্রবার। এ কারণে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেলা। মেলা উপলক্ষে স্বামী-সন্তানসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মেয়েরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনেরাও নিমন্ত্রণ খেতে আসেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান বলেন, মেলার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দেয়া হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশনা। মেলা উপলক্ষে সারা উপজেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

