জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বগুড়ার সমবায় শিল্প বণিক সমিতির চেয়ারম্যান ও আইনজীবী জহুরুল ইসলামকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর দুপুরে বগুড়ার দুর্নীতি দমন বিশেষ আদালতের বিচারক আয়েজ উদ্দিন এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি জহুরুল ইসলাম বগুড়া শহরের জামিলনগরের জান-ই-সাবা হাউজিং কমপ্লেক্স (বাসা নং-৮)এর মৃত মোজাহার আলী প্রামাণিকের ছেলে। রায়ে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন বিচারক। দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবা খাতুন সুখী রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া জেলা কার্যালয় হতে আসামি জহুরুল ইসলামকে তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নোটিশ জারি করার পর ওই বছরের ৯ অক্টোবর দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দাখিলী ওই সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানের পর সম্পদের হিসাবে অসংগতি পাওয়ায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় বগুড়ার তৎকালীন উপপরিচালক আনোয়ারুল হক বাদি হয়ে ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ওই আসামির বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন এবং নিজেই তদন্তভার গ্রহণ করেন।
পরে মামলাটি তৎকালীন সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম তদন্ত করে ওই আসামি জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭০ টাকা ৫০ পয়সার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণাসহ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২ কোটি ৪৭ লাখ ১ হাজার ৬৫৫ টাকা ১৭ পয়সার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে আসামির ভোগদখলে রাখার অপরাধে অভিযুক্ত করেন। পরে ২০১৭ সালের ১৭ জুন স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র ওই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করেন।
রায়ে দুটি ধারায় জহুরুল ইসলামকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও, উভয় সাজা একসঙ্গে ভোগ করার কারণে কার্যকর কারাদণ্ডের মেয়াদ হবে ৩ বছর। মামলাটি পরিচালনা করেন বাদি রাষ্ট্র পক্ষে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবা খাতুন সুখী এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান।
পতাকানিউজ/পিএম/এমওয়াই

