বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে আগে শীত পড়ে হিমালয়ের কোলঘেঁষা পঞ্চগড় জেলায়। গত কয়েকদিন দিনভর গরম আর রাতে শীত পড়ছে পঞ্চগড়ে। তাপমাত্রার এ ওঠানামায় অস্বস্তিকর আবহ তৈরি হয়েছে। তেঁতুলিয়ায় শীতের দাপট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। সকালের কনকনে হিমেল হাওয়ায় জমে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতা মানুষকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। রাতের তীব্র শীতে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ডিসেম্বরের শুরুতেই শৈতপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার, ২৬ নভেম্বর সকাল ৯টায় জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ, যার প্রভাবে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশায় ঢাকা ছিল পুরো এলাকা। পরে সূর্য উঁকি দিলেই মিলছে গরমের অনুভূতি।
এর আগে, মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল মৌসুমের অন্যতম কম তাপমাত্রা। তারও আগের দিন সোমাবার ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রার এই ওঠানামা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করেছে।
পঞ্চগড় শহরের ডোকরোপাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে ঠান্ডা লাগে। ঠান্ডা এমনভাবে নামছে যেন মনে হয় শীত এসে গেছে। অথচ সকালে রোদের তাপে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় সব।’
একই এলাকার গৃহবধূ শারমিন বেগম বলেন, ‘ভোরে পানি নেওয়া বা রান্নার প্রস্তুতি নিতে গেলেই হাত জমে আসে। কিন্তু দুপুরে রোদে দাঁড়ালে গরম লাগে। শীত-গরমের এ ওঠানামায় বাচ্চারা সর্দি-কাশিতে বেশি ভুগছে।’
স্থানীয়দের ধারণা, এভাবে তাপমাত্রা নামতে থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যেই পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়ায় পর্যটনের মৌসুম জমে উঠবে।
রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোর থেকে কামাই কমে গেছে। লোকজন ঠান্ডায় বের হয় না। তবুও কাজ তো করতে হবে। তাই মোটা কাপড় পরে রিকশা চালাই।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘শীত নামতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের শুরুতে শীত আরও তীব্র হবে। শৈতপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।’
পতাকানিউজ/এএইচ

