চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবির সাজ্জাদ বাহিনীর তিন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। গত রাতে এই তথ্য জানিয়েছে সিএমপি। তাদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে আলোচিত ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে সমর্থ হলো সিএমপি। এর আগে তাদের চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গ্রেপ্তাররা হলেন মারুফ হোসেন তুষার (২১), মো. বাবু (২৭) ও মেহেদী হাসান ওরফে হাসান (২২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি রিভলভার, একটি পিস্তল, একটি এসএমজি, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে সিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ইমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি পয়েন্ট ৩২ বোর রিভলভার এবং ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি সিএমপির পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অংশ বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, রিমন ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত আলোচিত আট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং বড় সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী।
রিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ এমএম পিস্তল এবং একটি মোটরসাইকেলসহ মনির নামে আরও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।
পরবর্তীতে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সায়েমের দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গ্রেপ্তার তিনজনই বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ নিত।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার রিমন ইমনের কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে, সম্প্রতি চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং আরও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-পতাকানিউজ

