ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মূল আসামি ফয়সালকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন নুরুজ্জামান নোমানীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এর আগেই ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন শরিফ ওসমান হাদি। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য ও গোপনে ষড়যন্ত্র, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন হাদি। দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে পালাতে সহযোগিতা করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত চলছে।
পতাকানিউজ/এআই

