ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা ও মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা স্বীকার করেছেন, ঘটনার পর ছেলেকে পালাতে সহায়তা করেছেন এবং আলামত লুকাতে ভূমিকা রেখেছেন।
বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্বীকারোক্তি দেয়া আসামিরা হলেন— ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোছা. হাসি বেগম (৬০)। এর আগে মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০। পরে তাদের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা জানান, ঘটনার পর ফয়সালকে পালাতে টাকা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র বা আলামত গোপন করতেও সহায়তা করেন তারা।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার পর ফয়সাল আগারগাঁওয়ে তার বোনের বাসায় যান। সেখানে একটি ব্যাগ লুকানো এবং নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় বাবা হুমায়ুন কবির তাকে অর্থ সহায়তা ও সিএনজি ভাড়া দিয়ে নিরাপদে সরে যেতে সাহায্য করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা কেরানীগঞ্জে ছোট ছেলের বাসায় আত্মগোপন করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা, শ্যালকসহ কয়েকজন সহযোগীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পতাকানিউজ/এআই

