চট্টগ্রাম মহানগরীতে চাঁদাবাজি আতঙ্ক দীর্ঘদিনের। চাহিদামতো চাঁদা না পেলে বাসা-বাড়িতে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা যেন স্বাভাবিক ঘটনা। আর কক্সবাজারে থেকে ঢাকামুখী সড়কের প্রবেশদ্বার হওয়ায় ইয়াবাসহ মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবেও কু-খ্যাতি আছে চট্টগ্রামের।
এবার চাঁদাবাজ ও মাদকরাজ্যে হানা দিতে আসছেন মো. শওকত আলী। গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে বদলী আদেশ পাওয়ার পর আজ ৩১ মার্চ তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসছেন। আর আগামীকাল ১ এপ্রিল, বুধবার কমিশনার পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
দায়িত্বভার গ্রহণের আগে নতুন কমিশনার মো. শওকত আলীর সঙ্গে কথা হয় পতাকানিউজের। শুরুতেই কোনদিকে মনোযোগ দেবেন? —এমন প্রশ্ন শুনেই তাৎক্ষণিক উত্তর দিলেন দুই শব্দে। ‘চাঁদাবাজ ও মাদক’।
চাঁদাবাজি বন্ধ এবং মাদক পাচারকারীদের প্রতি কড়া বার্তা তো অতীতের সব কমিশনারই দিয়েছেন। কিন্তু কোনটিই বন্ধ হয়নি। স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর বললেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি।’
বিদেশে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফোনে চাঁদাদাবি করে। তার অনুসারীরা চট্টগ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করে, গুলি চালায়—এমন বাস্তবতায় চাঁদাবাজদের জন্য নতুন পরিকল্পনা কী?—এবার দৃঢ় কণ্ঠে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, ‘পরিকল্পনা কি আর আগে ফাঁস করা যায়?’
কমিশনার পদে দায়িত্ব নিয়ে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা ডিআইজি মো. শওকত আলীর পদবী নতুন হলেও চট্টগ্রামে তিনি নতুন নন। সবশেষ তিনি উপ-কমিশনার পদে দায়িত্বপালন করে গেছেন। তাই বলা চলে, সিএমপির নাড়িনক্ষত্র তাঁর জানা। সিএমপির অপরাধের চোরাগলি সম্পর্কে যেমন জ্ঞান আছে তেমনি পুলিশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তাঁর জানার পরিধি বড়।
সিএমপিতে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার পদে দায়িত্বপালনের সুবাদে মাদকপাচারকারী কিংবা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের তথ্যভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ এই কমিশনারের। তাই বদলী আদেশ পাওয়ার পর অন্তত ১৫ দিনের হোমওয়ার্কে হয়তো ‘চাঁদাবাজ এবং মাদক’কে টার্গেট করেছেন। কিন্তু সিএমপিতে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক আরো অনেক সমস্যা আছে।
প্রশ্ন করতেই দ্বিতীয় দফার উত্তর দিলেন সংক্ষিপ্তভাবে। বললেন, ‘মহানগরবাসীকে পুলিশী সেবা শতভাগ নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ’।
‘এটাও সবাই বলেন।’—এবারও পুরনো কমিশনারদের কথা নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর বললেন, ‘অতীত নিয়ে কিছু বলবো না। ভবিষ্যতে সিএমপিতে নতুন কিছু করতে চাই। মুখে বলতে চাই কম। কাজ করতে চাই বেশি। দিনশেষে মহানগরীর মানুষই কর্ম মূল্যায়ন করবেন।’
সিএমপি ছেড়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় সিএমপির কমিশনার পদে যোগ দিতে আসার আগে পতাকানিউজের সঙ্গে পরিকল্পনা বিষয়ক আলাপের ফাঁকে এই কমিশনার বলেন, ‘একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রায় সব জায়গাতেই বেশ পরিবর্তন এসেছে। পুলিশ বাহিনীও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতীত নিয়ে আকড়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যতে কিভাবে ভালো করবে পুলিশ বাহিনী-এখন সেই চিন্তা করছি। সিএমপির বাসিন্দাদের যেমন ভালো সেবা দিতে চাই, তেমনি অফিসার-ফোর্সের কল্যাণও করতে চাই। সবমিলিয়ে শুরু করি আগে। সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে ভালো কিছু হবে বলে আশা করি।’
-পতাকানিউজ

