ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয় একটি “বিচারিক আইনি প্রক্রিয়ার” মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার জন্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও আলোচনা প্রয়োজন। ‘আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত’ পররাষ্ট্রসচিব যোগ করেন।
সোমবার (০৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। সভায় অংশ নেন ডিক্যাব-এর ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল, যা ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করছে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র, যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) এবং ডিক্যাব-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনকে সমর্থন জানায় বলেও পররাষ্ট্রসচিব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ভারত দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দৃঢ় সমর্থন করে। নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসবে, ভারত তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’
শেখ হাসিনাকে পুনর্বহালের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, তারা কেবল আগাম নির্বাচনের পক্ষে, যাতে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের ম্যান্ডেট প্রকাশ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে আর কিছু বলা প্রয়োজন নেই।’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ শুধুমাত্র এই অঞ্চলে নয়, বিশ্বজুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে। ভারত এই নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা করে এবং উৎসাহিত।
পররাষ্ট্রসচিব জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি হবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার। বাংলাদেশের জনগণ যেই সরকার বেছে নিক, আমরা সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করব।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারতের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং নির্বাচনের শর্তাবলি নির্ধারণে তারা অংশ নেবে না। ‘এটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত,’ তিনি বলেন।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ বৈধতার বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে কিভাবে দেখা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ, জনগণ ও সুশীল সমাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি জোর দেন, এই সিদ্ধান্তগুলো বর্তমানের পাশাপাশি মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত, এবং আমরা এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। এটি কেবল আমাদের জন্য নয়, পারস্পরিক স্বার্থও রক্ষা করে।’
মতবিনিময়কালে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পানিবণ্টন ইস্যুসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কিছু সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। মিশ্রি স্বীকার করেন, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা থাকা স্বাভাবিক। তবে তিনি অন্য কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
পররাষ্ট্রসচিব জোর দিয়ে বলেন, ‘সম্পৃক্ততা টেকসই করতে এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার জন্য উভয় পক্ষেরই উপযোগী পরিবেশ তৈরির দিকে কাজ করা প্রয়োজন।’ তিনি দ্বিপক্ষীয় পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন বিবৃতি বা পদক্ষেপ এড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
পতাকানিউজ/এনটি

