পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিন মামলার রায় আগামী ২৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে।
রবিবার, ২৩ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন যুক্তিতর্ক শেষে এ দিন ধার্য করেন।
আজ একটি মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির দিন থাকলেও অন্য দুই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের তারিখ ছিল। তবে আদালত দুটি মামলাতেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় যুক্তিতর্ক শুনানি গ্রহণ করেন এবং শেষে তিন মামলার রায় ঘোষণার একই তারিখ ঠিক করেন।
শুনানির সময় কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য (ভূমি ও স্থাপনা) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী শাহীনুর রহমান। অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ মামলার বেশির ভাগ আসামি পলাতক রয়েছেন।
দুদকের বিশেষ পিপি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিন মামলার মধ্যে একটিতে আসামি ১২ জন, আরেকটিতে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন এবং অপরটিতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন। সব মামলায় শেখ হাসিনা ও রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তা সাধারণ আসামি হিসেবে রয়েছেন। পলাতক থাকার কারণে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই একই আদালত তিন মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
আরেক মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি ২৫ নভেম্বর
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেক মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির তারিখ আগামী ২৫ নভেম্বর ঠিক করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম। এ মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট আসামি ১৭ জন।
আজ ছিল মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন। কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি খুরশীদ আলম নিজের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ ছাড়া একই আদালতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ও আজমিনা সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও দুটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে গত ২৫ মার্চ ছয় মামলারই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সবার বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হয়েও পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেন।
পতাকানিউজ/এআই

