সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হবে। এটি মামলার ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী।
আজ বুধবার (০৮ অক্টোবর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হবে। পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে জেরা করবেন।
আমির হোসেন গতকাল (মঙ্গলবার) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মো. আলমগীরকে জেরা করেন। জেরার সময় তিনি সাক্ষীর জবানবন্দির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধ্য হয়ে গুলি চালানোর যুক্তি খণ্ডন করে তার মক্কেলদের পক্ষে সাফাই বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জেরা শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আদালতের কার্যক্রম আজ পর্যন্ত মুলতবি রাখে।
এ পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবসে এই মামলায় ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। শেষ সাক্ষীর জেরা শেষ হলে মামলাটি যুক্তিতর্ক ও রায়ের ধাপে প্রবেশ করবে।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর রাষ্ট্রপক্ষের ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি তার সাক্ষ্যে জানান, জুলাইয়ের আন্দোলনকালে ৪১টি জেলায় ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল এবং ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তিনি আরও জানান, জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন লাখ পাঁচ হাজার রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল।
আদালতে প্রদর্শিত প্রমাণ: সাক্ষ্য চলাকালে আলমগীরের জব্দ করা ১৭টি ভিডিওচিত্র ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শিত হয়, যেখানে জুলাই-আগস্টের সহিংসতার নৃশংস দৃশ্য ফুটে ওঠে। এছাড়া, তিনি আন্দোলনের ভয়াবহতা নিয়ে যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন জব্দ করেন, যা আদালতে দেখানো হয়।
আসামি ও অভিযোগ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আসামিদের মধ্যে আল-মামুন নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি: গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদনটি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয়। এই মামলার পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্রের দৈর্ঘ্য আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার শহীদদের তালিকা রয়েছে। এই মামলায় মোট ৮১ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
প্রসিকিউশন দল: রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। তাঁদের সহায়তায় ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, তারেক আবদুল্লাহ ও মামুনুর রশীদ।
শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা গত বছরের জুলাই-আগস্টের দেশব্যাপী এই হত্যাযজ্ঞের জন্য শেখ হাসিনা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পতাকানিউজ/এনটি

