চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল আলম শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘শেরে-বাংলা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘অবিভক্ত বাংলার জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শেরে বাংলার কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী। প্রধান আলোচক ছিলেন ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরে বাংলার দৌহিত্র ও সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের আদর্শ ও কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার অবদান স্মরণ করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল আলম শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে তার গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
পুরস্কার পাওয়ার পর অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল আলমের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শেরে-বাংলা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গর্বের বিষয়। অবিভক্ত বাংলার মহান নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতির সাথে যুক্ত এমন একটি সম্মাননা প্রাপ্তি আমাকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই স্বীকৃতি আমার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বরং আমার সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও আমি শিক্ষা ও গবেষণায় আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দেশের জ্ঞানচর্চা ও মানবকল্যাণে অবদান রাখতে চাই।’
উল্লেখ্য, ড. মোরশেদুল আলম বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি একজন খ্যাতিমান গবেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত। গবেষণা ক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি জার্নালে ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ। এছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রায় ৪০০টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত ৫টি গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
-পতাকানিউজ/এমএসএইচ

